নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১০ এপ্রিল চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন। এ দিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির করতে পারেননি মর্মে এক কাস্টডি ওয়ারেন্ট প্রেরণ করেন।
এর আগে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন খালেদা জিয়া। বিচারক তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেন। নাইকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিট আবেদন গত বছরের ১৮ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে মামলার ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আদালত।
বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ ওই নির্দেশনা দেন। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।
২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার বাকি আসামিরা হলেন- চার দলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।