ভেনেজুয়েলা প্রশ্নে মুখোমুখি ট্রাম্প-পুতিন

প্রেডিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়ে সমালোচনা করে বলতেন তিনি সীমা অতিক্রম করেছেন। সিরিয়া ইস্যুতে ওবামা কীভাবে রাশিয়াকে জায়গা করে দিয়েছেন এ নিয়ে ট্রাম্প কম আক্রমণ করেননি।

কিন্তু এখন ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্প নিজেই নিজের সীমা অতিক্রমের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মুখোমুখি। গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলাতে রাশিয়ার উপস্থিতি নিয়ে কয়েক দফা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। তাদের দাবি, মস্কো প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সাহায্য করছে। অবশ্য ট্রাম্পের কর্মকর্তারা আশা করছেন ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী মাদুরোকে উৎখাত করবে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন দাবি করেন, ভেনেজুয়েলাতে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ১০০ জন উপদেষ্টা অবস্থান করছেন। এছাড়া রাশিয়া দেশটিতে নতুন সামরিক উপকরণ পাঠিয়েছে যা ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার বিরুদ্ধে হুমকি বলেও দাবি করেন তিনি। এখানে উল্লেখ্য, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী ট্রাম্পের মুখ থেকে আসেনি, এসেছে বোল্টনের মুখ থেকে। যা ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র একই সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছিল, বিদেশি শক্তির উচিত হবে না পশ্চিমা ভূ-গোলার্ধে হস্তক্ষেপ করা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, হুয়ান গুইদোকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৫০টি দেশের স্বীকৃতির পরেও রাশিয়া মাদুরোর পাশে দাঁড়াবে। কারণ এরই মধ্যে পুতিন সিরিয়াতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের সক্ষমতার পরীক্ষা দিয়ে সফল হয়েছেন। সিরিয়ায় কার্যত ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি।

বহির্দেশে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে ট্রাম্পের একটা স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্পই প্রথম বলেছেন, ‘সকল বিকল্প সম্ভাবনা হাতের নাগালে রয়েছে’। এই বক্তব্যের মধ্যে কিছু ফাঁকা রয়েছে, যাতে বলা যাচ্ছে না ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে না বিপক্ষে। লাতিন আমেরিকায় হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

গত সপ্তাহে মাদুরো সরকার ঘোষণা দেয় যে হুয়ান গুইদোকে আগামী ১৫ বছরের জন্য তার কার্যালয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়ট আব্রামস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি না হুয়ান গুইদো মাদুরো সরকার নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। কারণ মাদুরো সরকার হয়তো আগামী ১৫ দিনও না টিকতে পারে।’ বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির পর নিষেধাজ্ঞা জারি আরও কঠোর করার কথা বলেন।

বাস্তবে মাদুরোকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার অনেক কারণ আছে পুতিনের। কারণ ভেনেজুয়েলায় রাশিয়ার বিনিয়োগ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার মস্কোকে তুলতে হবে। চীনেরও বেশ ভালো বিনিয়োগ আছে দেশটিতে। ফলে চীনও চাইবে না মাদুরো সরকারের পতন হোক। খুব সম্ভবত ভেনেজুয়েলা কখনো মস্কোকে তার বিনিয়োগের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে পারবে না, কিন্তু যতদিন মাদুরো সরকার ক্ষমতায় আছে ততদিন ওই অঞ্চলে রাশিয়ার স্বার্থরক্ষা হবে।