পাঁচ বছর আগে বর্জ্য থেকে ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এতদিনেও এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৪ সালে বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চসিকের সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) একাধিকবার চিঠি চালাচালির পর গত বছর এই দুই সেবা সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। প্রকল্পটির অগ্রগতি এই সমঝোতাতেই সীমাবদ্ধ। চসিক প্রকল্প বাস্তবায়নে জায়গা ও পরিমাণমতো বর্জ্য সরবরাহ করতে সম্মত থাকলেও পিডিবি বলছে, জায়গা ও বর্জ্যরে পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরীর বর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে পিডিবির সঙ্গে এমওইউ সই হয়েছে। চসিক হালিশহরের আনন্দবাজার বা বায়েজিদের আরেফিননগর এলাকার যেকোনো একটি জায়গা দেবে। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পরিমাণমতো বর্জ্যও সরবরাহ করা হবে।’
পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, ‘সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বেশি ব্যয় হয়। পাশাপাশি জায়গাও বেশি লাগে। এমওইউ অনুসারে বর্জ্য থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে চসিক নগরীর হালিশহরের আনন্দবাজার এলাকার জায়গা ও পরিমাণ মতো বর্জ্য দেওয়ার কথা ছিল। দুই মাস আগে এই প্রকল্পের জন্য কী পরিমাণ জায়গা ও বর্জ্য প্রয়োজন; এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছি। চসিকের মতামতের অপেক্ষায় আছি।’
তবে পিডিবির কাছ থেকে এমন কোনো চিঠি পাননি বলে জানান চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে এমওইউ সই হয়েছে। এখন আবার কিসের চাহিদাপত্র? প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জায়গা ও বর্জ্য চসিক দেবে।’
গত বছরের ২১ অক্টোবর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিকের সঙ্গে পিডিবির এমওইউ সই হয়। এতে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা ও পিডিবির পক্ষে আইপিপি সেলের প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর করেন। সমঝোতা অনুযায়ী, পিডিবি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এবং চসিক বিনামূল্যে জায়গা দেবে। এই প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি। বিল্ড, ওন অ্যান্ড অপারেট (বিউও) পদ্ধতিতে তারা স্পন্সর ঠিক করবে।
এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে পিডিবির প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, ‘হালিশহর এলাকায় চসিকের যেই জায়গায় প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল, সেটিতে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র করা যাবে না। জায়গাটি প্রয়োজনের তুলনায় ছোট।’ চসিক জানায়, ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব ও বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের উপস্থিতিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়।