মাঠে রাজউকের ২৪ টিম

তথ্য সংগ্রহের পর ব্যবস্থা

রাজধানীতে ত্রুটিযুক্ত বহুতল ভবন চিহ্নিত করতে ভবনগুলোর নকশা, অনিয়ম, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহে মাঠে নেমেছে রাজউকের ২৪টি টিম। গতকাল সোমবার থেকে রাজউকের ৮টি জোনে ভাগ হয়ে টিমগুলো একযোগে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ৭ দিনের মধ্যে তারা তথ্য সংগ্রহ শেষ করবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে দশ তলার অধিক ভবনগুলোর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছে টিমগুলো। তথ্য সংগ্রহের পর চিহ্নিত ভবনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তথ্য সংগ্রহের পর ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া রাজউক কর্মকর্তারা।

জোন-৬ এর পরিচালক খন্দকার অলিউর রহমানের নেতৃত্বে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ভবনগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত চারটি ভবন পরিদর্শন করেন তারা। এর মধ্যে দুটিতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা পাওয়া যায়। ফকিরাপুল টয়েনবি সার্কুলার রোডের হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল ভবনে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাই পাওয়া যায়নি। ১২ তলা ভবনটিতে জরুরি নির্গমন সিঁড়ি কিংবা আগুন নেভানোর জন্য কোনো পানির ব্যবস্থাও নেই। নিচতলায় একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার পাওয়া গেলেও সেটি ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। তারা পাশের ২০ তলা হোটেল রহমানীয়া ইন্টারন্যাশনাল ভবনে জরুরি নির্গমন সিঁড়ি থাকলেও অন্য কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এ দুটি ভবন তাদের ভবন নকশাও দেখাতে পারেনি। দৈনিক বাংলা মোড়ের আল আরাফাহ টাওয়ার ও আইএফআইসি টাওয়ার দুটিতে তেমন কোনো ত্রুটি পাননি রাজউক কর্মকর্তারা।

জোন পরিচালক খন্দকার অলিউর রহমান বলেন, ‘আমরা কেবল তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেছি। আজ প্রথম দিন। ৭ দিনের মধ্যে আমরা রিপোর্ট দেব। প্রাপ্ত তথ্যগুলো পরবর্তী সময়ে বিশ্লেষণ করা হবে। সেই আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি জানান, জোন-৬ এ মোট চারটি টিম গঠন করা হয়েছে। এই জোনে ৩০৪টি বহুতল ভবন রয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে সবগুলো শেষ করবেন। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ১৫ দিনের অভিযানের কথা বললেও রাজউক সময় কমিয়ে ৭ দিনের মধ্যেই তথ্য সংগ্রহ অভিযান শেষ করবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান অলিউর রহমান।

অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন ঠিক আছে কি না, নকশার অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয়েছে কি না, অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা ঠিকভাবে আছে কি না, কার পার্কিংসহ অন্য বিষয়গুলো অবৈধ ব্যবহার হচ্ছে কি না এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত রবিবার গৃহায়নমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম রাজউকের ২৪টি টিম অভিযানে নামার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রথমে বহুতল ভবন, দ্বিতীয় দফায় সকল ভবন পরিদর্শন করে সকলকে বিল্ডিং কোডের আওতায় আনার জন্য যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, আমরা সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বিল্ডিং কোডের অধীনে সকল শর্ত পালন না করলে বিল্ডিং ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অনুমোদনহীন বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হবে। অনুমোদনের বাইরে কোনো অবকাঠামো থাকার কোনো সুযোগ নেই।’