বিদেশি চ্যানেল নয়, বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভারতের জি নেটওয়ার্কের সব টিভি চ্যানেল। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় চ্যানেল জি বাংলা, জি সিনেমা, জি বাংলা সিনেমা ও জি টিভি। ধীরে ধীরে অন্য চ্যানেলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন ক্যাবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ।

তিনি জানান, সোমবার বিভিন্ন ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এদিকে শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ডাউন লিংক করে দেখানো বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। ১ এপ্রিল থেকে কেউ যদি তা করে, তাহলে আইন প্রয়োগ করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ডাউন লিংককৃত বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে পরিবেশক সংস্থা নেশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড ও জাদু ভিশন লিমিটেডকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬ এর উপধারা-১৯ (১৩) এর বিধান লঙ্ঘন করেছে এই সংস্থা দুটি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ বিষয়ে কয়েকবার সতর্কবার্তা জারির পর সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের টিভি-২ শাখা থেকে এ নোটিশ জারি করা হয়।

বাংলাদেশে ডাউনলিংক করা বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো লোকসানে পড়ছে বলে দাবি জানিয়ে আসছিলেন দেশের টিভি চ্যানেলের মালিকেরা। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকে বিদেশি চ্যানেল বন্ধের কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ তারা দেননি মূলত আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন কেন প্রচার হচ্ছে- তা জানতে চেয়ে দুটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয় তারা। সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। এরপর কেবল অপারেটররা ওই চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোনো চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করেনি, তারা কেবল প্রচলিত ‘আইন প্রয়োগ’ করেছেন। আমরা নোটিশ দিয়েছি বিজ্ঞাপন ছাড়া যেন দেখানো হয়। নোটিশের জবাব পাওয়ার প্রেক্ষিতে আমাদের সিদ্ধান্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি কোনো চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায় না। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের আইন। একই ধরনের আইন ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপেও আছে। বাংলাদেশে এ আইনটি মানা হচ্ছিল না এবং এ আইনটি প্রয়োগ করা হয়নি। এ কারণে যেটি হয়েছে, বাংলাদেশের টিভিগুলো যে বিজ্ঞাপন পেত তার বড় অংশ চলে গেছে ভারতে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিলিভার পাঁচ বছর আগে বিজ্ঞাপন খাতে মাসে ১৫ কোটি টাকা খরচ করত। তার বিচারে, পাঁচ বছরে এটা ২০ কোটি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা না হয়ে ৫ কোটিতে নেমে এসেছে। বাকি বিজ্ঞাপন ভারতীয় চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যেটা আইনবহির্ভূত। এ রকম অনেকগুলো কোম্পানির বছরে ৫০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন অন্য দেশে চলে গেছে।”

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, মূলত ভারতের যেসব চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো সেগুলো বন্ধ করেছে তারা। মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে সম্প্রচার বন্ধ করতে বলা হয়নি, বলা হয়েছিল আইন অনুযায়ী বিজ্ঞাপন ছাড়া যেন সম্প্রচার করা হয়। কারণ  কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনের ১৯(১৩) ধারায় বলা হয়েছে, কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বা সঞ্চালন করা যাবে না। দেশর স্বার্থে, দেশের গণমাধ্যমের স্বার্থেই এই আইন প্রয়োগ করা শুরু করা হয়েছে।