‘অনেক পুলিশের ৪/৫টি বাড়ি, দুদক কি দেখে না’

ওসিরা থানায় সালিশ বসায় কোন সাহসে? তারা (পুলিশ) নিজেরা বিচার বসায় কীভাবে? এত সাহস তারা কোথায় পায়? এত ক্ষমতা তাদের কে দিয়েছে? পুলিশের কাজ তো মানুষের সেবা করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সালিশ করা নয় বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় বসতবাড়িতে হামলার পর সংশ্লিষ্ট থানার ওসি মামলা না নিয়ে ভুক্তভোগীকে সালিসের প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিকার পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ফজলুল করিম নামে এক ব্যক্তি।

ওই রিট  আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান  ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এসব মন্তব্য আসে।

আদালত আরো বলেছেন, ‘থানাগুলোতে টাকা ছাড়া জিডি (সাধারণ ডায়েরি) হয় না। অনেক পুলিশকে দেখি কষ্ট করে দিনযাপন করে। কিন্তু অনেক পুলিশের ৪/৫টি সুন্দর সুন্দর বাড়ি রয়েছে। দুদক কি তাদের দেখতে পায় না।’

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. শামসুল হক কাঞ্চন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম।

আদালত বলেন, ‘ওসিরা যেখানে সেখানে কোর্ট বসায়, রাতে কোর্ট বসায়। তাদের (পুলিশ) এ ক্ষমতা কে দিয়েছে? এত সাহস তারা কোথায় পায়। পুলিশের কাজ তো মানুষের সেবা করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাদের কাজ তো সালিশ করা নয়। ওসি কি সালিশ করতে বসেছেন? তারা সুবিধামতো মামলা নেবেন। অথচ টাকা ছাড়া থানায় জিডি হয় না। ১৩ হাজার পুলিশ যারা থানায় বসেন তাদের কারণে গোটা পুলিশের বদনাম হচ্ছে।’

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেন, ‘আপনি কোট, গাউন খুলে সাধারণ বেশে কোন থানায় একটি জিডি করতে যান। দেখবেন টাকা ছাড়া জিডি হবে না।’

আইনজীবী ও মামলার এজাহারের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুরা গ্রামে ফজলুল করিমের বসত বাড়িতে হামলা করে স্থানীয় ইউসুফ আলীসহ বেশ কয়েকজন। এ সময় বাড়ির লোকজনদের মারধর, ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ফজলুল করিম শ্যামনগর থানায় মামলা করতে চাইলে ওসি মামলা নিতে গরিমসি করেন এবং সালিসের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেবেন বলে জানান।

ফজলুল করিম বেশ কয়েকদিন থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলেও ওসি সালিশের বিষয়ে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে ফজলুল করিম সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করলে ২৬ ফেব্রয়ারি পুলিশ সুপার এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ দেন।

থানার একজন এসআই (উপ-পরিদর্শক) ঘটনার সত্যতা রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করলেও ওসি মামলা রেকর্ড করেননি। এরপর প্রতিকার পেতে গত ৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ফজলুল করিম।

১০ মার্চ শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসানের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ঘটনার আংশিক সত্যতা পেয়েছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার শুনানি হয়। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী রবিবার (৭ এপ্রিল) ধার্য করেন।

সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা নেয়া হয়নি মর্মে আমরা আদালতকে অবহিত করেছি। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন।’

রিটকারীর আইনজীবী শামসুল হক কাঞ্চন বলেন, ‘থানায়  মামলা না নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নেওয়ায় হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’