ফের নুরসহ নেত্রীরা লাঞ্ছিত, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে ছাত্রলীগের হাতে দ্বিতীয় দফা হেনস্তার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরসহ নেত্রীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এসএম হলের প্রভোস্ট অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার সময় এ ঘটনা।

বিকেল ৫টা থেকে হল অফিসে অবরুদ্ধ ছিলেন নুর। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন।

এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নুর এবং সেখানে যাওয়া নেত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। ডিম নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েকজন নেত্রীকে অশ্লীল গালাগাল এবং অন্ধকারে শারীরিকভাবে হেনস্তারও অভিযোগ উঠেছে।

ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজিরকে লাথি মেরে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের বিচার দাবি এবং তার নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ভিপি নুর।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন, ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান, জিএস প্রার্থী রাশেদ খান, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি প্রমুখ।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে অরণি সেমন্তি খান বলেন, “এসএম হলের প্রভোস্টের গায়েও ডিম মারা হলো। এই অবস্থায় তিনি আমাদেরকে নিরাপদে এগিয়ে দিতে চাইলেও তার প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসীরা চারপাশ থেকে আমাদের মেয়েদেরকেও লাথি-ঘুষি মারে, শারীরিক নির্যাতন করে।”

তিনি বলেন, “ভিসি স্যারের বাসার সামনে বসে আছি, বসে থাকব। এটা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না।”

নুর বলেন, “একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করার প্রতিবাদ করতে আমরা গিয়েছি। কিন্তু আমাদের ওপর এভাবে হামলা করা হলো। এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভিসির বাসভবনের সামনে থেকে যাব না।”

এর আগে ডাকসু নির্বাচনে এসএম হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে জিএস পদে প্রার্থী হওয়া ফরিদ হাসানের ওপর হামলার বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে হল অফিসে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তাদের ওপর প্রথম দফা হামলা হয়। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় নুরকে।

জানা গেছে, ফরিদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে বিকেল ৪টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

সেখান থেকে হল অফিসে অভিযোগ দেওয়ার জন্য ফরিদকে নিয়ে এসএম হলে যান ভিপি নুর। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন, ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান, জিএস প্রার্থী রাশেদ খান, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি প্রমুখ।

তারা সেখানে গেলে প্রথমে হল অফিসের বাইরে স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় নেত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে তারা। শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজনের গায়ে ডিম লাগে। পরে তারা ছাত্রলীগের হেনস্তার বিষয়ে অভিযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে যান।

এদিকে তখনো ভিপি নুরকে লাঞ্ছিত করে প্রভোস্ট অফিসে আটকে রাখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তার সঙ্গে হলের আবাসিক শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ এবং হল সংসদের ভিপি ও জিএস অবস্থান করছিলেন।

এর আগে সোমবার রাতে হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে জিএস পদে প্রার্থী হওয়া ফরিদ হাসানকে জিএস জুলিয়াস সিজার ও হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে মারধর করে হল থেকে বের দেওয়া হয়।

ফরিদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র। মারধরে আহত ফরিদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তার কপালের ডান পাশ থেকে ডান কান পর্যন্ত ৩২টি সেলাই পড়েছে। কানের পাশে ও চোখের ওপরে জখম হয়েছে।