ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ কর্র্তৃক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলা শহর। নৌকার পরাজয়ের পেছনে প্রশাসনকে দায়ী করার পাশাপাশি ভোটের দিন সবকটি কেন্দ্রে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে জেলা ছাত্রলীগ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এর ফলে শহরের প্রধান এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুপুর ১টার দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে অবরোধ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করতে করতে শহরের মেড্ডার দিকে চলে যান। বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল কবির, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামানের প্রত্যাহারসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য মেহেদী হাসান লেনিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সুজন দত্ত, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন, যুগ্ম সম্পাদক নাঈম বিল্লাহ, পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রুমান আল স্বাধীন, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী খায়রুল আলম, ছাত্রলীগ নেতা আফরিন ফাতেমা, হাজেরা আক্তার প্রমুখ।
এ সময় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল,সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন বলেন, প্রশাসনের অতিউৎসাহী লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিওর টাকার কাছে বিক্রি হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সেই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল কবির ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামান।
তারা বলেন, ভোটকেন্দ্র ও আশপাশ এলাকায় নৌকার ব্যাজ পরা যাকে পেয়েছে তাকেই পেটানো হয়েছে। যদি হামলাকারীদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রত্যাহার করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে ছাত্রলীগ তাদের বিচারের ব্যবস্থা করবে।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ১১৪টি কেন্দ্রের সবকটিতেই প্রশাসন ও পুলিশ বেপরোয়া হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পিটিয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে সহকারী কমিশনার ভূমি কামরুজ্জামানের নির্দেশে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে পুলিশ। তবে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল কবির দাবি করেনÑ নির্বাচনের দিন ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে তার দেখা হয়নি। সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামান জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যতটুকু করা দরকার ততটুকু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি অল্পদিন হলো এখানে এসেছি। কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে চিনি না।’