রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে গ্রিনরোডে অবস্থিত সম্রাট হোটেলের ৮০৮ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে ওই শিক্ষার্থীদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এরা হলেনÑ তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আমিনুল ইসলাম (২১) ও বেসরকারি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী মরিয়ম চৌধুরী (২০)। হোটেলে জমা দেওয়া তাদের পরিচয়পত্র থেকে জানা গেছে, আমিনুলের বাবার নাম মোশাররফ হোসেন। বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার হরিপুর গ্রামে। মরিয়মের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখানের কোলারাম গ্রামে। তার বাবার নাম মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী।
ওসি মাজহারুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত সোমবার এই দুই শিক্ষার্থী স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আবাসিক হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। কক্ষে প্রবেশের পর মঙ্গলবার পর্যন্ত তারা আর বের না হওয়ায় হোটেল কর্র্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। দরজা ভেঙে বিছানা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। মৃতের পরিচয় শনাক্তের জন্য স্বজনদের খবর পাঠানো হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষক জানান, মরিয়মের সঙ্গে আমিনুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুজনেই গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন। ওই শিক্ষক বলেন, মেয়েটি আগে একই বিভাগে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদকাসক্ত হওয়ায় সেখান থেকে বের করে দেয় ইউনিভার্সিটি কর্র্তৃপক্ষ। গত আট মাস আগে মরিয়ম তাদের ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলেও ঠিকমতো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিত না। ঝিগাতলার একটি মেসে থাকতেন। তেজগাঁও থানার এসআই শরীফুল ইসলাম বলেন, তরুণ-তরুণীর শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোনো উত্তেজক পদার্থের বিষক্রিয়া থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য দুই পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছি। লাশের ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।