সব ছাপিয়ে মোহামেডান-ব্রাদার্স বিতর্ক

বৃষ্টির রূপ নিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অষ্টম রাউন্ডের খেলায় আঘাত হানল বিতর্ক। টানা চার হারের পর বিকেএসপিতে গতকাল মোহামেডান জয়ের ধারায় ফিরেছে। কিন্তু সেটা হয়েছে তাদের ইনিংসের পর কার্টল ওভারের ম্যাচে ব্রাদার্স খেলতে রাজি না হওয়ায়। ফলাফলে তাই লেখা, ‘মোহামেডান অ্যাওয়ার্ডেড দ্য ম্যাচ (অপজিশন রিফিউজড টু প্লে)’।

প্রতিপক্ষ খেলতে রাজি না হওয়ায় মোহামেডানকে জয়ী করা হয়েছে। কেন খেলল না ব্রাদার্স? ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ শিপার বলছেন, তারা সব নিয়ম যথাযথভাবে মেনেছেন। ব্রাদার্সের ক্রিকেট ম্যানেজার আমিন খানের তীব্র প্রতিবাদ, ‘আমাদের সময় না দিয়ে হুট করে এই সিদ্ধান্ত দিয়ে মোহামেডানকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

গতকাল ছিল তিন ম্যাচ। প্রতিটিতে হানা দিয়েছিল বৃষ্টি। পরের ইনিংস ২০ ওভারের। মিরপুরে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ডি/এল মেথডে ৪৯ রানে হারিয়েছে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবকে। ফতুল্লায় জিতলেই সুপার লিগ নিশ্চিত ছিল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের। কিন্তু ডি/এল মেথডে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ৪৮ রানে ম্যাচ জিতে ধরে রাখল সুপার সিক্সে খেলার আশা। দুটি ম্যাচেরই প্রথম ইনিংসে ৫০ ওভার খেলা হয়েছে। এরপর বৃষ্টির কারণে ২০ ওভারে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়।

একই ঘটনা ঘটেছিল বিকেএসপিতে। সুপার সিক্সে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে মোহামেডান। তারা আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩১৬ করে। দুই ওপেনার অভিষেক মিত্র (৬৮) ও ইরফান শুক্কুর (৯২) ১৭৪ রানের জুটি গড়েন। সেঞ্চুরি মিস হয় ইরফানের। এরপর আছে রবিউল হাসানের ৫০ ও সোহাগ গাজীর ৪৩। ইনিংস ব্রেকে নামে বৃষ্টি। আরও পরে খেলা শুরু করতে গিয়েই বিপত্তি।

ম্যাচ রেফারি শিপার ঢাকায় ফেরার পথে মোবাইলে দেশ রূপান্তরকে জানালেন, ‘দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বৃষ্টি নামে। আড়াইটায় থামে। এরপর আম্পায়াররা (মাসুদুর রহমান ও গাজী সোহেল) দেখছিলেন খেলা শুরু করা যায় কি না। একদিকে একটু নরম ছিল। ওটা শুকানোর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ম্যাচ শুরুর শেষ সময় ছিল ৪টা ৬ মিনিট। তার ১১ মিনিট আগে (অন্তত ১০ মিনিট আগে জানানো নিয়ম) দুই দলের অধিনায়ককে জানানো হয় খেলা শুরু হবে।’ ২০ ওভারে ১৭৪ টার্গেট দেওয়া হয় ব্রাদার্সকে। কিন্তু ব্রাদার্স খেলতে রাজি হলো না কেন? ম্যাচ রেফারি শিপার বলছিলেন, ‘আম্পায়াররা ৪টা ৬-এ মাঠে নামলেন। মোহামেডানও নেমে গেল। কিন্তু ব্রাদার্স নামতে রাজি হলো না। ওরা বলল, ওদের নাকি আগে জানানো হয়নি। আসলে তো জানানো হয়েছে। তারপরও আমরা ৯ মিনিট অপেক্ষা করেছি। তারপর নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমিন খান ম্যাচে রেফারির কথাকে উড়িয়ে দিলেন, ‘তিনি একটু বেশি বেশি বলছেন। আম্পায়াররা ৪টা ৩ মিনিটে এসে আমাদের জানালেন এখনো ৭ মিনিটের মতো বাকি, পিচটা শুকাবে নাকি। ম্যাচ শুরুর কথা কিছু বলেননি। এরপরই আম্পায়াররা মাঠে নেমে গেলেন। আমাদের নামতে বললেন। আমাদের ক্যাপ্টেন বললেন, কার্টল ওভারের শিডিউল তো দেবেন। তাছাড়া আমাদের ব্যাটসম্যানদের ওয়ার্ম আপের জন্য ২/৫ মিনিট সময় তো চাই। পিচও ছিল ভেজা। খেলার উপযোগী ছিল না। এই কথা যখন চলছে তখন হুট করে মোহামেডানকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।’ তার দাবি, ‘আমাদের বলা হয়েছিল কলড অফ করার সময় ৪টা ১০।’ তাদের দাবি, কিছু বুঝে ওঠার আগেই হেরে গেলেন তারা।

মিলছে না। একজনের সঙ্গে আরেকজনের কথা মিলছে না। কেবল বিতর্কই জন্ম দিয়েছে এবং দিচ্ছে। ব্রাদার্স জানাল, তারা ভেবেছিল এই অবস্থায় ম্যাচ বাতিল হবে। তাহলে পয়েন্ট ভাগ হয়ে যাবে। শেষে লিগের পরিচালক সিসিডিএম বা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

খেলা হলে ফল হতো কী সেটা জানার উপায় নেই। তবে এক ইনিংসের ম্যাচ জেতায় মোহামেডানের হয়েছে লাভ। হারের বৃত্ত ভেঙে ফেরায় ৮ ম্যাচের ৪টি জিতে এখন ৮ পয়েন্ট তাদের। দুটি দলের ১৪ এবং আরও দুটির ১২। এরপরই মোহামেডান ও শাইনপুকুর। ব্রাদার্সের ৮ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। ডেঞ্জার জোনে তারা। শাইনপুকুরের কাছে হারায় প্রাইম ব্যাংকের টানা ৫ জয়ের রথ থামল। পয়েন্ট থাকল ১২। ৮টি করে ম্যাচ খেলে গাজী গ্রুপের ৬ ও উত্তরার ৪ পয়েন্ট।