দেশকে সামরিক জান্তার হাত থেকে মুক্ত করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতায় পরিণত হন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। প্রায় ১৬ বছর টানা দেশ শাসন করছেন তিনি।
তবে ৩১ মার্চ দেশটির স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন ওসমানী খিলাফতের নতুন ‘সুলতান’। রাজধানী আঙ্কারাসহ বড় তিনটি শহরের মেয়র নির্বাচনে হেরেছে তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি-একেপি।
এর মধ্যে একেপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দেশটির সবচেয়ে জনবহুল শহর ইস্তাম্বুলেও হেরেছে এরদোয়ানের প্রার্থী। আর তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইজমিরে ভোটের ব্যবধানও ছিল লক্ষ্যণীয়।
অবশ্য মোট ভোটের ৫১.৬৪ শতাংশ পেয়েছে একেপি নেতৃত্বাধীন পিপলস অ্যালায়েন্স। আর ৩৭.৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিরোধী জোট নেশন অ্যালায়েন্স।
আনাদলু জানায়, একক দল হিসেবে এরদোয়ানের একেপি পেয়েছে ৪৪.৩৩ শতাংশ ভোট। আর প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) পেয়েছে ৩০.১২ শতাংশ ভোট।
মিডল ইস্ট আই জানায়, এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তুরস্কের গণমাধ্যম। সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এই নির্বাচনকে এরদোয়ানের বিজয় হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে বিরোধী সংবাদমাধ্যমগুলো এই ফলাফলকে এরদোয়ানকে জনগণের ‘হলুদ কার্ড’ প্রদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়া তুরস্কে এই নির্বাচনের ফলাফলকে এরদোয়ানের ‘শেষের শুরু’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে এমনটা মানতে নারাজ ক্ষমতাসীন একেপি।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিম বলেন, “অনেকেই ফের এরদোয়ানের ‘শেষের শুরু’ গল্প প্রচার শুরু করেছেন। তারা কখনোই শিখবে না।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনে একেপি ৪৪.৩৩ ভাগ ভোট পেয়েছে আর দলটির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫১.৬৪ ভাগ ভোট। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন এরদোয়ান। আর এ সময়ের মধ্যে কোনো নির্বাচন নেই।”
মূলত মুদ্রাস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং তুর্কি মুদ্রা লিরার দাম পড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এরদোয়ানের দল। ভূ-রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির ফলে চাপে পড়ে তুর্কি অর্থনীতি।