ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়ে বিচার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহমসুন্নাহার হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে দুই দফা হেনস্তার শিকার হন ইমিসহ ডাকসু এবং বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার রাতভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘটনা ও কর্মসূচির আপডেট নিজের ফেসবুক আইডিতে দেন ইমি।
একটি স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “আজ আমি ইমি, মাসুদা ভাট্টি নই বলে আমাকে ডিম ছোড়া ছেলেগুলোই এখন আমার সামনে শোডাউন করছে। কেন জন্মেছিলাম এই দেশে!”
জানা গেছে, কর্মসূচি চলাকালে আশপাশে শোডাউন দিতে থাকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে ইমির বসার স্থানেও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, এসএম হল সংসদ নির্বাচনে জিএস প্রার্থী হওয়া ফরিদ হাসানের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
সেখান থেকে হল অফিসে অভিযোগ দেওয়ার জন্য ফরিদকে নিয়ে এসএম হলে যান ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন, ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান, জিএস প্রার্থী রাশেদ খান, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি প্রমুখ।
তারা সেখানে গেলে প্রথমে হল অফিসের বাইরে স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় নেত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে তারা। শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজনের গায়ে ডিম লাগে।
পরে তারা ছাত্রলীগের হেনস্তার বিষয়ে অভিযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে যান। এদিকে তখনো ভিপি নুরকে লাঞ্ছিত করে প্রভোস্ট অফিসে আটকে রাখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের সহায়তায় নুর সেখান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন।
এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নুর এবং সেখানে যাওয়া নেত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। ডিম নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েকজন নেত্রীকে অশ্লীল গালাগাল এবং অন্ধকারে শারীরিকভাবে হেনস্তারও অভিযোগ উঠেছে।
ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজিরকে লাথি মেরে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের বিচার দাবি এবং নিরাপত্তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন আক্রান্তরা।