রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের ডাকা ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে বুধবার ফের ৬ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলের শ্রমিকেরা। বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ডেমরা-যাত্রাবাড়ী, ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা ও শিমরাইল সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ৯ দফা দাবিতে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন পাটকল শ্রমিকরা। ডেমরার দুই পাটকলের হাজার হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ও বৈদ্যুতিক পোল ফেলে বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীতে তারা রাস্তায় টায়ার ও কাঠে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
বিক্ষোভ ও অবরোধে সৃষ্ট যানজটে নাকাল হয়ে পড়েন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কে চলাচলকারী লাখো মানুষ। এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থী ও রোগীরা দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়েন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও পরীক্ষার্থীদের গাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন শ্রমিকেরা। যানজটে আটকা পড়া অনেক শিক্ষার্থীদের হেঁটে পরীক্ষার কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে হয়েছে। এ সময় ডেমরা ও আশপাশের এলাকার কর্মজীবী ও অফিসগামী লাখো মানুষজনের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে করিম জুট মিলের মহা-ব্যবস্থাপক এএসএম মামুন-উর-রহমান বলেন, শ্রমিকদের মজুরি কমিশনের দাবি মেনে নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সে ক্ষেত্রে শ্রমিকদের রাস্তায় নামার কথা নয়। তবে একটি কুচক্রী মহল নানা কৌশলী অপপ্রচার চালিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ করেছে। মিথ্যা অপপ্রচারকে কেন্দ্র করে কিছু শ্রমিক করিম জুট মিলের ভেতরে এসে অন্তত ১০ জন কর্মকর্তাকে হতাহত করেছে।
প্রসঙ্গত সারা দেশের পাটকলগুলোর মতো মঙ্গলবার ভোর ৬ টা থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন ডেমরার রাষ্ট্রায়ত্ত দুই পাটকল। এ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। এ সময়ের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা।