অভিনেত্রী, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এ্যাড.তারানা হালিম সম্প্রতি ঢাকার চলচ্চিত্র পাড়ার বোদ্ধা মহলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সিনেমা ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ দেখে অভিভূত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
তারানা হালিম রোজধানীর বসুন্ধরা সিটির সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি দেখার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্টোটাস দেন। দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য স্টেটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
“ ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’চেনা অথচ অচেনা এক জগতের নিত্য সংগ্রাম গাথা- দর্শক আমি অভিভূত- বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান চলচ্চিত্র নির্মাতা আছেন তা যেন আবারো প্রমাণিত হলো। ৯৪ মিনিটের সাদা-কালো চলচ্চিত্রটি- জীবনের সাদা ও কালোকেই তুলে এনেছে সাদামাটাভাবে। এই সাধারণ বা সাদা-মাটা ভাবে জীবনের সাদা-কালোকে ফ্রেমে বন্দী করা সেলুলয়েডে তুলে আনাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। স্বল্প সংখ্যক নবীন অভিনেতা- অভিনেত্রীর উপস্থিতি এবং প্রচারহীন প্রদর্শনী থেকেই বোঝা যায়- কম বাজেটেই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক। অথচ প্রতিটি চরিত্রের শিল্পীর কি জীবনঘনিষ্ঠ- অভিনয়! ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক নয় আযানের হাল্কা ও উচ্চ ধ্বনির ব্যবহার, দিশেহারা মানুষগুলোর রূঢ়তা- এই সারল্যকে সরলভাবে তুলে আনার কাজটি অসাধারণ দক্ষতায় করেছেন পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। আমার প্রিয় বাঁধনকে ধন্যবাদ। ও আমাকে বললো- “আপু চলেন। ছবিটা দেখেন। আপনার ভালো লাগবে।” কেবল ভালোই লাগেনি, একটু বেশীই ভালো লেগেছে- তাই প্রশংসা করতে কার্পণ্যও করবো না।
জেনেছি, ২০১৬তে সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরষ্কার পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সেলস প্রতিষ্ঠান,ছবিটি বিশ্ব বাজারে মুক্তির ব্যবস্থা নেয়।
একজন ভাই, পুঁজি বাজারে সব হারানো মানুষ, প্রতিবন্ধী যুবক, নিষ্ঠুর প্রেমিক- এত সত্ত্বার ধারক প্রধান চরিত্রটি আপনাকে বার বার ভাবাবে- “সে কি মানবিক না স্বার্থপর!”, “সে কি ভালো একজন বড় ভাই, না বিপন্ন মানুষ!” “সে কি পাগলাটে প্রেমিক নাকি, জীবনযুদ্ধে বেচেঁ থাকাকে বেছে নেয়া এক বাস্তববাদী মানুষ?”
বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে, জীবনযু্দ্ধের চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে- সঠিক পথ খুজে নেয়া কঠিন। আজকাল শর্টকাট পথটিকেই বেছে নেয় অনেকে-অনেক নির্মাতাও-প্রচারেই যে প্রসার। কিন্ত নিভৃতচারী এই পরিচালকের ছবি বিনা প্রচারে প্রদর্শিত হবে- মানুষ দেখবে না- এটা ভাবতে কষ্ট হয়। তাই এমন ছবির প্রচার, প্রসারে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। যেন ছবি নির্মান, প্রদর্শণী আর প্রচার নিয়ে এমন অনেক প্রতিভাবান পরিচালকদের ভাবতে না হয়- তারা কেবল রং তুলি দিয়ে একের পর এক ছবি একেঁ যাবে নির্ভাবনায় আর বাংলাদেশ মাথা উচু করে বলবে- আমরাও বানাচ্ছি একের পর এক বিশ্বমানের চলচ্চিত্র।শুভ কামনা রইলো "লাইভ ফ্রম ঢাকা " চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য। ”