বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ছয়বারের সাংসদ। রাজনৈতিক জীবনে দেখেছেন অনেক চড়াই-উতরাই। সেই লালকৃষ্ণ আদভানি এবার বিজেপির মনোনয়ন পাননি। না পেয়ে চুপ করে বসে থাকেননি। এক ব্লগ পোস্টে বিজেপির বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন তিনি।
আদভানি লিখেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, এমন কাউকে আমরা কোনো দিন দেশদ্রোহী বলতাম না।’
পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর যাকে-তাকে দেশদ্রোহী বলছেন বিজেপি নেতারা। তাদের সঙ্গে মতের অমিল হলেই ‘পাকিস্তানি’ বানিয়ে দিচ্ছেন। আদভানি মূলত সেই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন।
৬ এপ্রিল বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস। তার দুদিন আগে ৯১ বছর বয়সী প্রবীণ নেতার এমন মন্তব্য ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলটিকে বিপাকে ফেলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদভানির এমন মন্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
আদভানি লিখেছেন, ‘সবার আগে দেশ, তারপর দল এবং শেষে আমি। সব পরিস্থিতিতেই এই আদর্শ মেনে চলার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’
‘ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল সারমর্ম হল, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করা। জন্মলগ্ন থেকে কখনই ভিন্নমতের মানুষদের শত্রু হিসেবে দেখেনি বিজেপি। বরং পরামর্শদাতা হিসেবেই মেনে নিয়েছে। ভিন্ন মতাদর্শের কাউকেই দেশদ্রোহী আখ্যা দিতাম না আমরা। প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধ দল।’
গুজরাট দাঙ্গার পর মোদির সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয় আদভানির। মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। সভাপতি রাজনাথ সিংসহ দলের অন্য নেতাদের আপ্রাণ চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করেন।
কিন্তু মোদির সঙ্গে সম্পর্ক আর ভালো হয়নি। মোদি দায়িত্ব নিয়ে আদভানিসহ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতাকে উপদেষ্টা বানিয়ে রাখেন।