ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে ১১ এপ্রিল। সাত দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে পুরোদমে প্রচার-প্রচারণায় নেমে গেছে রাজনৈতিক দলগুলো। পিছিয়ে নেই জরিপ প্রতিষ্ঠানগুলোও।
দ্য হিন্দু জানায়, ‘লোকনীতি’ পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে- তিনটি সিদ্ধান্তের কারণে এই নির্বাচনে এগিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স-এনডিএ জোট।
গত ৭ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নেওয়া তিনটি সিদ্ধান্ত এই নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মোদির জোটকে এগিয়ে রাখবে।
সিদ্ধান্ত তিনটি হলো- আর্থিকভাবে দুর্বলদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, পিএম-কিষান স্কিমের আওতায় কৃষকের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর এবং ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাকিস্তানে বিমান হামলা।
সিএসডিএস-লোকনীতি-দ্য হিন্দু-তেরঙ্গা টিভি-দৈনিক ভাস্কর পরিচালিত ২০১৯ সালের নির্বাচন-পূর্ব এই জরিপে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪৩ ভাগ লোক মোদিকে সমর্থন করছে যা ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে ৭ ভাগ বেশি।
অন্যদিকে রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করছেন জরিপে অংশ নেওয়া ২৪ ভাগ লোক। মমতা ব্যানার্জির সমর্থন মাত্র ১ শতাংশ।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘হার্টল্যান্ড’ খ্যাত তিনটি রাজ্যে বিজেপির পরাজয়ের পরও মোদির জনপ্রিয়তার উত্থান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কংগ্রেসের ‘নয়া’ স্কিম ইশতেহার এবং রাফায়েল বিতর্ক ভোটারদের তেমন প্রভাবিত করছে না। তবে শেষ নাগাদ এই তিনটি সিদ্ধান্তই ভোটের আগে মুখ্য বিষয় থাকবে কিনা সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ভারতে আগামী ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন তথা লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সাত দফায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে ১৯ মে। আর ২৩ মে থেকে শুরু হবে ভোট গণনা।
প্রথম দফার (১১ এপ্রিল) হবে ২০টি রাজ্যের ৯১ আসনে, দ্বিতীয় দফায় (১৮ এপ্রিল) ১৩ রাজ্যের ৯৭ আসনে, তৃতীয় দফায় (২৩ এপ্রিল) ১৪ রাজ্যের ১১৫ আসনে, চতুর্থ দফায় (২৯ এপ্রিল) ৯ রাজ্যের ৭১ আসনে, পঞ্চম দফায় (৬ মে) ৭ রাজ্যের ৫১ আসনে, ষষ্ঠ দফায় (১২ মে) ৭ রাজ্যের ৫৯ আসনে এবং সপ্তম দফায় (১৯ মে) ৮ রাজ্যের ৫৯ আসনে ভোট হবে।
গত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৩৬টিতে জয়লাভ করেছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। বিজেপি ২৮২টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কংগ্রেস জেতে মাত্র ৪৪টি আসনে।