ফেসবুক পেজ থেকে রাতভর রাবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফেসবুক পেজ থেকে নানাভাবে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী এক ছাত্রী।

কিন্তু কে বা কারা এই পেজের অ্যাডমিন এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে বলে জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার মধ্যরাতে ‘Ru Crush & Hate Confession’ পেজ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রীর ছবিসহ পোস্ট আপডেট করা হয়। যেখানে ওই ছাত্রী সম্পর্কে অশ্লীল, অশ্রাব্য, কুরুচিপূর্ণ এবং যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। মুহূর্তেই পোস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী দেখেন। সেখানে কমেন্টের স্থলেও শুরু হয় ‘বিদ্বেষমূলক’ মন্তব্য। কেউ কেউ স্ক্রিনশট নিয়ে তাতে আরো ‘বিদ্বেষমূলক’ মন্তব্য জুড়ে দিয়ে শেয়ার করতে থাকেন ফেসবুকে।

রাতভর সামাজিক মাধ্যমে ওই ছাত্রীকে নিয়ে চলে নেতিবাচক আলোচনা, সমালোচনা। পরে বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন জনের আপত্তির মুখে দুপুরে পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন পেজের অ্যাডমিন।

কে বা কারা এই ধরনের পেজের অ্যাডমিন এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

ওই ছাত্রীর কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে একটি ছেলে আমার সঙ্গে সম্পর্ক করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। সে সম্পর্কে আমার বন্ধু হয়। তবে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকলেও রিলেশনে জড়ানোর মতো ইচ্ছে ছিল না। তারপরও বিভিন্নভাবে সে আমাকে বিরক্ত করত। এক  পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে আমি তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি। তখন সে  আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এর কয়দিন পরই এমন পোস্ট করে আমার সম্মান নষ্টের চেষ্টা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই ছাত্রী বলেন, আমি খুব মানসিক চাপে আছি। আমার বাবা-মা বা এলাকার কোনো মানুষ যদি পোস্টটি দেখে থাকে, তবে তাদের আমি কী বলে আশ্বস্ত করব?

ভুক্তভোগী ছাত্রী আরো জানান, রাতে পোস্টটি দেখার পরই তিনি পেজের ম্যাসেজ অপশনে ম্যাসেজ করেন পোস্টটি ডিলিট করার জন্য। কিন্তু তারা এটা নিয়ে হাস্যরসাত্মক রিপ্লাই দিতে থাকে। তিনি আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা বললে, তাদের কথা বলার সময় নেই এবং যা মন চায় করার কথা বলে।

তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই পেজ দেখা গেলেও শুক্রবার বিকেল থেকে সেটা ফেসবুকে আর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, ‘রাবি নিয়ে এমন পেজ আছে সে সম্পর্কে আমার জানাশোনাই ছিল না। কেউ এ বিষয়ে অভিযোগও করেনি। তবে যেহেতু জানলাম, খতিয়ে দেখা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখানোর পর তিনি পেজের অ্যাডমিনদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রক্টর জোর দিয়ে বলেন, ‘এ ব্যাপারে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’