হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা

হিমাগারে বেশি ওজনের বস্তায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শ্রমিক

আদালতের আদেশ অমান্য করে দিনাজপুরের অধিকাংশ হিমাগারে ৫০ কেজির বেশি ওজনের আলুর বস্তা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে হিমাগারের মালিকরা লাভবান হলেও বেশি ওজনের বস্তা লোড-আনলোড করতে গিয়ে ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে শ্রমিকদের। সঙ্গে প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হিমাগার শ্রমিকরা।

দিনাজপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দিনাজপুরে ১২টি হিমাগার রয়েছে। যেখানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। কয়েকটি হিমাগার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগারগুলোর বাইরের গেটে ‘উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী কর্র্তৃপক্ষ ৫০ কেজি ওজনের অধিক বস্তা গ্রহণ করা হয় না’ লেখাসংবলিত ব্যানার টাঙানো থাকলেও বাস্তবচিত্র ঠিক তার উল্টো।

িিদনাজপুরের দশমাইল-রংপুর সড়কে রাহবার হিমাগার প্রাইভেট লিমিটেডের শ্রমিক পঙ্কেশ বাবু (৪৫) বলেন, বর্তমানে বাইরে কাজের অভাব, তাই বাধ্য হয়েই এখানে কাজ করছি। শ্রমিক হবিবর রহমান বলেন, সর্দারের সঙ্গে চুক্তি করে এখানে কাজ করতে এসেছি। এখন কাজ না করলে তিনি আমাদের জেল-জরিমানার ভয় দেখান। তাই বাধ্য হয়েই ভারী বস্তা টানার কাজ করতে হচ্ছে।

শ্রমিকদের মধ্যে গাড়ি থেকে শেড পর্যন্ত যারা বস্তা নামান তারা পান বস্তাপ্রতি পাঁচ টাকা, শেড থেকে পিসি পর্যন্ত যারা বস্তা টানেন, তারা পান চার টাকা আর যারা পিসি থেকে চেম্বারে বস্তা নিয়ে যান, তারা পান আট টাকা। শ্রমিকদের দাবি বস্তাপ্রতি প্রতিটি স্তরে অন্তত দুই টাকা বাড়ানো হোক।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন আবদুল কুদ্দুস বলেন, অধিক ওজন বহন করার ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের হাড় বেঁকে যাওয়া, স্পাইনাল কর্ড ছিঁড়ে যাওয়া, কোমরের হাড় ক্ষয়, অকালে স্বাস্থ্যহানি, কর্মক্ষমতা হ্রাসসহ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করার সম্ভাবনা থাকে।

পুনর্ভবা ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজার্ভস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, যেসব জুটমিলে বস্তা তৈরি হয়, সেখানে যদি ২৩ থেকে ৩৮ সাইজের বস্তা তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয় তবে হাইকোর্টের আদেশ শতভাগ মেনে চলা সম্ভব হবে। দিনাজপুর জেলা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী হিমাগারগুলো পরিদর্শন করেছি। হিমাগার কর্র্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রাজশাহীর ‘পবা উপজেলা লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন’ কর্র্তৃক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে করা রিট পিটিশনের রায়ে শ্রমিকদের ৫০ কেজির অধিক ওজনের বস্তা বহন করানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে।