শ্রেণিকক্ষ ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষিকার বাড়িতে পাঠদান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার টানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ৪৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি বিদ্যালয়টির। স্কুলঘরটি ভেঙেচুরে এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে এর প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে এখন চালাতে হচ্ছে স্কুলের কার্যক্রম।

বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ায় অভিভাবকরাও সন্তানদের ওই বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা দেখাচ্ছেন। কারণ যেকোনো সময় ঘরটি ভেঙে তাদের সন্তানদের ওপরে পড়তে পারে।

জানা গেছে, পৌরসভার টানপাড়া গ্রামবাসী ২০০৫ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমদিকে ছাত্রছাত্রী সংখ্যায় অনেক থাকলেও ঘর-দরজা ভেঙে পড়ার ফলে কমে যেতে থাকে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তিসহ সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষকরাও বিনা পয়সায় পাঠদান করাচ্ছেন। ৩৩ শতক ভূমির ওপর বিদ্যালয়টি দোচালা টিনের ঘর।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘বেসরকারি বিদ্যালয় হওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের দায়দায়িত্ব আমাদের নেই।’

টানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার বলেন, বছরখানেক আগেও ১৩৮ জন শিক্ষার্থী ছিল, বিদ্যালয়ের বেহাল দশার কারণে বর্তমানে ৪৫ জন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মহসিন মিয়া মন্টু বলেন, ‘সরকারি না হওয়ায় গ্রামবাসী আখাউড়া পৌর কর্র্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়টি হস্তান্তর করেছি। যত দিন পর্যন্ত নতুন ভবন না হচ্ছে তত দিন পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে পাঠদান করানো হবে।’