হৃৎপিণ্ডের ভালভের জটিলতায় ভোগা রোগীর গতি-প্রকৃতি নির্ণয় বা অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অবস্থা জানতে ইকো পরীক্ষা করে থাকেন চিকিৎসকরা। এই পরীক্ষা তাই দ্রুত সময়ে করা প্রয়োজন হয়। অথচ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ইকো পরীক্ষায় লাগছে এক মাস। হাসপাতালে থাকা তিনটি ইকোগ্রাফি মেশিনের দুটিই দুই বছর ধরে নষ্ট। এক মেশিনে পরীক্ষা করাতে গিয়ে তাই হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের, ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা।
উচ্চ কম্পাংকের শব্দতরঙ্গ বা আলট্রা সাউন্ডের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে হৃৎপেশির সঞ্চালন, প্রকোষ্ঠের বর্তমান অবস্থা এবং হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয় ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষায়। চমেক হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, এখানে দৈনিক গড়ে এক মেশিনে ৭০ জনেরও বেশি রোগীর পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪০ জনই হৃদরোগ বিভাগের। এরপরও রোগীর চাপ সামলানো যায় না। বেশির ভাগই সিরিয়াল পান এক মাস পর। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি খরচে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ইকো পরীক্ষা করান।
চমেকে ইকো পরীক্ষা করাতে ২০০ টাকা ফি লাগলেও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে লাগে দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা। বোয়ালখালী থেকে আসা রোগী মো. সাইফুল (৬০) বলেন, ‘কার্ডিওলজির বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শে ইকো পরীক্ষা করতে গেলে সেখানে থেকে জানানো হয়, এখন সিরিয়াল দিলে ১ মাস পর করা যাবে। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানলাম, সেখানে এই পরীক্ষা করাতে দেড় হাজারের বেশি টাকা লাগবে।’
বহির্বিভাগে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় হাটহাজারী নজুমিয়া হাটের বাসিন্দা জুঁই ইসলাম (২৫) নামে এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের বুকে ব্যথা অনুভব করায় চিকিৎসক দ্রুত পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এখানে এসে জানতে পারি ইকো করাতে মাসখানেক আগে সিরিয়াল দিতে হয়। আবার আরেকজন লোক (দালাল) বলছে সামনের ক্লিনিকে গেলে এখনই পরীক্ষা করানো যাবে।’
ইকোগ্রাফি মেশিনের সংকটের বিষয়ে চমেকের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজোয়ান রেহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি মেশিনে ২৫টি ইকো করা যায়, এর বেশি করলে মেশিনটি গরম হয়ে যায়। তখন কিছুক্ষণ বন্ধ রেখে আবার চালু করতে হয়। ফলে চাইলেও সব রোগীকে পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই সিরিয়াল দিতে হয় রোগীদের।’
চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মেশিন সংকটের বিষয়টি কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। নতুন ইকো মেশিন শিগগিরই আসবে। আমরা চাই না কোনো রোগী সরকারি হাসপাতালের সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হোক।’