‘অনুমোদনহীন ভবনের ক্ষেত্রে বুয়েটের পরামর্শ নেওয়া হবে’

অনুমোদনহীন ঊর্ধ্বমুখী ভবনের ক্ষেত্রে জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত টিমের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘মিট দা প্রেস’ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শামীম, অর্থ সম্পাদক রুহুল আমিন ও যুগ্ম সম্পাদক শাহাজাহন সাজু।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, অনুমোদন ছাড়া যারা ঊর্ধ্বমুখী ভবন করেছেন তাদের জন্য বুয়েটসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের নিয়ে একটি টিম থাকবে। তারা পরিদর্শন করে যদি দেখেন বহুতল ভবনটির অবৈধাংশ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথক পিলার দিয়ে শক্ত করা যায় তাহলে সেটা করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় ওই ভবনের সেই সক্ষমতা নেই তাহলে সেই ভবনের জন্য নির্দিষ্ট সময় দিয়ে ভেঙে ফেলতে হবে। অনুমোদনহীন কোন ঊর্ধ্বমুখী ভবন থাকবে না। কোনভাবেই বিষয়টাকে ঝুলিয়ে রাখার প্রক্রিয়া করা যাবে না।

নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে এবার শুধু ভবন মালিক নয়, যারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, কোন ভবন হয়ে যাওয়ার পর বলবে ভবনটি অবৈধ, সেটা হবে না। রাজউকের যে অফিসার ওই অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবে তাকে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। যে ডেভেলপার কোম্পানি কাজ করবে তাকেও দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। তবে কোন ভাবেই অনুমোদনহীন ঊর্ধ্বমুখী ভবন থাকবে না। সেগুলোর বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার আমরা করব।’

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে আমরা রাজউক থেকে ২৪টি টিম নামিয়েছি। প্রথমে বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শন করবে এরপর সকল ভবন পরিদর্শন করে দেখা হবে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সকল ব্যবস্থা আছে কি না। আমরা ভবনগুলো ক্লাসিফাই করতে চাই। যদি কোন ভবনে শুধু অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে তাদের সময় বেঁধে দেব এই সময়ের মধ্যে বিল্ডিং কোডে যে ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়েছে সেই ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে হবে। ভবন মালিক সেটা করার পর আবার পরিদর্শন টিম যাবে, তারা সার্ভে করার পর ব্যবহারের অনুমতি দেব। একইভাবে কোন ভবনে জরুরি নির্গমন পথ না থাকলে বা সেই পথ বন্ধ থাকলে অধবা গ্যারেজের জায়গা দখল করে স্থাপনা করলে তাদেরও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেব। এরপর তারা যদি সেসব ব্যবস্থা সংযুক্ত না করেন তাহলে ভবনটি সরিয়ে নিতে বলব তা না নিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এই মুহূর্তে রাজধানীতে ৯০ হাজার ভবন নির্মাণকাজ চলমান বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার যে অথরাইজড অফিসারের এলাকায় অবৈধ ভবন নির্মাণ হচ্ছে বা হবে ওই এলাকার অফিসারকে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিনের আপডেট তথ্য আমাদের দিতে হবে। কোন ভবন ১০ তলা হয়ে যাওয়ার পর বলবে অবৈধ সেটা হবে না। এ রকম হলে ওই অফিসারকে অভিযুক্ত করা হবে।’

হাতিরঝিলে বিজিএমই ভবন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আদালত সময় বৃদ্ধি না করলে আমাদের প্রস্তুতি আছে। আমরা ভবনে যারা ছিলেন তাদের সুনির্দিষ্ট সময় দেব। ওই ভবন ভাঙার মতো কারিগরি প্রস্তুতি আমাদের আছে।’