কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভুলে আনোয়ার হোসেন নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে স্বজনরা।
পাশাপাশি কর্তব্যরত কয়েকজন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানো হয়। এর প্রতিবাদে চিকিৎসকদের কর্ম বিরতির কারণে সেবা পাচ্ছে না রোগীরা।
এ ঘটনার বিচারের দাবিতে শনিবার দুপুরে মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচি পালন করছে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন সকল চিকিৎসক, কর্মচারী-কর্মকর্তারা। ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদ কর্মস্থল না হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ সময় তাদের বুঝিয়ে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টা করেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আবছার। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাদের আশ্বাসে আস্থা নেই বলে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি হাসিবুন নাসিম সোহান বলেন, একজন রোগী মারা গেছে। আমরা তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তারপরও স্বজন নামধারী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর দফায় দফায় হামলা করেছে। হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। যতদিন পর্যন্ত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে না ততদিন কর্মবিরতি চলবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুল আফসার বলেছেন, শুধু ইন্টার্ন চিকিৎসক নয়, সব চিকিৎসকেরা মানবিকভাবে সাধারণ মানুষদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, কোন ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক। আমি আশ^স্থ করতে চাই, আন্দোলন সংগ্রাম না করে চিকিৎসকেরা হাসপাতালে ফিরে যাক। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাব।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নুর আহমদ জানান, তিন ধরে কোন ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দিতে আসেনি। আমি অপারেশনের রোগী। তারা বলছে বাড়ি চলে যেতে। কিন্তু এ অবস্থায় কি বাড়ি যাওয়া সম্ভব। একজন রোগীর জন্য সবাইকে কষ্ট দিচ্ছে তারা। চিকিৎসকেরা এটা অমানবিক আচরণ করছে।
সবকিছু গুটিয়ে চলে যাচ্ছেন টেকনাফের ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, কে কি করলো তা নিয়ে কোন ঘোষণা ছাড়া কর্মবিরতি পালন করতে পারে না। তাও আবার সদর হাসপাতালের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীর স্বজনদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অন্য রোগীর জন্য নিয়ে আসা ভ্যাকসিন আমাদের রোগী আনোয়ার হোসেনকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরই তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে ইন্টার্নদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমাদের ক্ষিপ্ত হয়ে কথা বার্তা বলতে থাকে। এরপরই কে বা কার চেয়ার-টেবিলে ভাঙচুর চালিয়েছে আমরা জানি না।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলার ২৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে জেলার ৮ উপজেলার প্রায় ২৩ লাখ মানুষ। গত তিন দিন ধরে এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার অধিবাসীরা।