ফের নির্বাচনে জিতলে দখলকৃত পশ্চিমতীর স্থায়ীভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বিবিসি জানায়, অন্য দেশের ভূমি দখল করে বসতিস্থাপন আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। তবে ইসরায়েলিরা এ আইন মানতে নারাজ।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়ছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। জোটের ডানপন্থী দলগুলো দখলকৃত পশ্চিমতীরের একাংশ ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে।
এমন সময় নেতানিয়াহু এমন ঘোষণা দিয়েছেন, কয়েক দিন আগেই যখন দখলকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূ-খণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে এটি দখল করে।
বর্তমানে ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিমতীরে ৪ লাখ ইহুদি বসবাস করে। এছাড়া দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ২ লাখ ইহুদি বসতিস্থাপন করেছে। পশ্চিমতীরে বসবাস করে ২৫ লাখ ফিলিস্তিনি।
ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রেখেছে। তবে ইসরায়েলি নেতারা বলছেন, এটার আর এখন সম্ভব নয়।
নেতানিয়াহু কেন পশ্চিমতীরের বৃহৎ বসতিস্থাপনকে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের অধীনে আনছেন না- ইসরায়েলি টিভির এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আপনি জানতে চাচ্ছেন- আমরা দ্বিতীয় ধাপের দিকে এগোব কিনা। জবাব হচ্ছে- ‘হ্যাঁ’। আমরা দ্বিতীয় ধাপের দিকে যাব।”
নেতানিয়াহু বলেন, “আমি ওই এলাকাকে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের অধীনে আনতে যাচ্ছি। আমি ইসরায়েলের বসতিগুলো আর (ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে) স্থাপিত বিচ্ছিন্ন বসতিগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।”
এদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র বলেন, “যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ কিংবা ঘোষণা বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারবে না। বসতিস্থাপন অবৈধ এবং সেগুলো সরবেই।”
নির্বাচনে সাবেক সেনাপ্রধান বেনি গানৎজের দলের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডির লড়াই হতে পারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির। তবে জোটগতভাবে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে আছেন নেতানিয়াহু। ফলে তিনি রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।