চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একপক্ষের ছাত্র ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। দেশীয় অস্ত্র মামলায় আটক ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ওসি বেলালের প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ছাত্র ধর্মঘট পালন করছেন তারা। রোববার সকাল থেকে বর্তমানে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের নেতকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের প্রধান গেইট তালাবন্ধ করে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে ধর্মঘট সফল করতে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সকল বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
এছাড়া রোববার সকালে চট্টগ্রাম বটতলী স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হুইসপাইপ কেটে দিয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢোকার সকল প্রবেশপথ, সকল দোকানপাটও বন্ধ করে দিয়েছে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের নেতকর্মীরা।
দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দালন চলবে বলে জানিয়েছেন তারা। ফলে যান চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যতই অচল হয়ে পড়েছে চবি।
জানা গেছে, ফেসবুকে এক গ্রুপের নাম নিয়ে অন্য গ্রুপ বাজে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র গত ৩১ মার্চ (রোববার) থেকে তিনদিনব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ ও দেশীয় অস্ত্রেও মহড়া দেয় শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের কর্মীরা।
এতে তিন দিনে ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন এক গ্রুপের আহতের অনেককে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টরে চিকিৎসা করাতে দেয়নি অন্য গ্রুপ। এসব ঘটনায় ১ মার্চ (সোমবার) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাঁচটি আবাসিক হলে তল্লাাশি চালিয়ে দু’টি পাইপগান ও ১২৮ রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রুপ দুটি ২ মার্চ (মঙ্গলবার) ফের সংঘর্ষে জড়ালে সংঘর্ষ চলাকালীল ৬ ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের ৩ মার্চ (বুধবার) দেশীয় অস্ত্র মামলায় কোর্টে চালান দেয় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।
এদের মধ্যে চবি আইন বিভাগের ছাত্র খালেদ মাসুদ, একই বিভাগের শাকিল হাসান, সমাজতত্ব বিভাগের সিফাত উল্লাহ সরকার শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি গ্রুপের কর্মী।
অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগের বেলাল হাসান, ইতিহাস বিভাগের অমিত রয় এবং উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ইয়াসিন আরাফাত শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের কর্মী।
এছাড়া এরা সবাই শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
এবিষয়ে সিএফসি গ্রুপের নেতা মির্জা খবির সাদাফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের ছাত্রলীগের ৬ কর্মীকে শুধু শুধু গ্রেপ্তার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের হাতে আস্ত্র না থাকলেও তাদেরকে অস্ত্র মামলায় চালাল করে দেওয়া হয়েছে। তারা নির্দোষ, প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হোক।
তিনি আরও বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার আমাদের ভাইদের মুক্তি দিতে হবে। ওসি বেলালের এসব হওয়ায় তাকেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত সহ-সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা আজাদুর রহমান বলেন, “আমাদের কর্মীদের মিথ্যা অস্ত্র মামলায় আটক করা হয়েছে। এছাড়া আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদেও অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমাদের কর্মীদের নিঃশার্তমুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী এবং হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলালের প্রত্যাহারের দাবি।”
বিজয় গ্রুপের অন্য পক্ষের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত সহ-সম্পাদক ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, “৬ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে বিনা দোষে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও আমাদের উপর নানা সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ দিয়ে মামলা হামলা চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় মিথ্যা দেশীয় অস্ত্র মামলায় আটক আমাদের ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ওসি বেলালের প্রত্যাহারের দাবিতে আমাদের এ আন্দোলন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের নামে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাদের (ছাত্রলীগের) আন্দোলন যৌক্তিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”