ফেনীর সোনাগাজীতে দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য নয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। রোববার সকাল ১০টায় এই বোর্ড গঠন করা হয়।
ছাত্রীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন, অধ্যাপক আবুল কালাম, অধ্যাপক রাইহানা আউয়াল, অধ্যাপক নওয়াজেশ খান, অধ্যাপক লুৎফর কাদের, অধ্যাপক বিধান সরকার, অধ্যাপক মহিউদ্দিন, ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম ও জহিরুল ইসলাম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের মতামতের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আজ থেকে নল দিয়ে তাকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। যেকোনো সময় পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।”
এদিকে শনিবার পরীক্ষা কেন্দ্রে ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির (১৮) গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জরুরি সভায় বসেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।
সভায় আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মাদ্রাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও অনির্দিষ্টকালের জন্য মাদ্রাসা হোস্টেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ওই কেন্দ্রে চলমান আলিম পরীক্ষা যথা নিয়মের চলবে।
মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন জানান, কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মাদ্রাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও অনির্দিষ্টকালের জন্য হোস্টেল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
ম্যানেজিং কমিটির এ ধরনের সিদ্ধান্ত জানা নেই উল্লেখ করে নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ বলেন, এ বিষয়ে আজকে আবারো বসা হবে। মাদ্রাসা বন্ধ হলেও বোর্ড নির্ধারিত পরীক্ষা যথা নিয়মে চলবে।
এর আগে পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুরো তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাস্থল থেকে পলিথিন জাতীয় কিছু পাওয়া গেছে। ধারণা হচ্ছে, ওই পলিথিনের ভেতরেই কেরোসিন ছিল।”
অন্যদিকে আহত মাদ্রাসা ছাত্রীর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, নুসরাত জাহান রাফির অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি।
মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে- এমন সংবাদ পেয়ে নুসরাত জাহান ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪/৫জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।