অতি দাহ্য ছাড়া সব রাসায়নিকের অনুমতি দিলেন মেয়র

রাজধানীর পুরান ঢাকায় অতি দাহ্য ব্যতীত সব ধরনের রাসায়নিকের ব্যবসা চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

অতি দাহ্য ৩৫ রাসায়নিক না রাখলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির শিকার হচ্ছেন, ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।

পাশাপাশি পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক অপসারণে গঠিত টাস্কফোর্সকে ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করারও নির্দেশ দেন মেয়র।

রবিবার পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও পারফিউম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সাঈদ খোকন এসব নির্দেশনা দেন।

সভার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’। সভায় ব্যবসায়ীরা কেমিক্যাল ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন শুরুর করলে মেয়র তাদের আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া স্থানীয়দের অনুরোধে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের ঘোষণাও দেওয়া হয় সভায়। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ।

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন নিহত হওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল দোকানগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণের কথা বলে আসছিলেন মেয়র। তারই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আরমানিটোলা মাঠে ‘অগ্নিনির্বাপণ মহড়া’ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন তিনি।

মহড়ার বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘মঙ্গলবার অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার উদ্বোধন করা হবে। এরপর ৫০ বা ১০০ জনের ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি বলেন, নগর কর্তৃপক্ষ পুরান ঢাকায় ব্যবসার সম্প্রসারণে যা যা করার সব করবে। সেই সঙ্গে নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করবে। কারণ ব্যবসা হচ্ছে জীবনের জন্য, জীবনের বিনিময়ে কখনো ব্যবসা হতে পারে না।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘অতি দাহ্য ৩৫ কেমিক্যালের ব্যবসা করা যাবে না। এটা নিশ্চিতের দায়িত্ব আপনাদের। এগুলোর পাশাপাশি আপনাদের প্রতি অনুরোধ, যেসব কেমিক্যাল আগুনের সংস্পর্শে আসলে বিস্ফোরণ হতে পারে সেগুলোর ব্যবসাও আপনারা করবেন না।’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাঈদ খোকন বলেন, টাস্কফোর্সের অভিযানে কিছু ব্যবসায়ী হয়ত সমস্যায় পড়েছেন। আমরা চেষ্টা করব আর কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়। এ সময় তিনি সভায় উপস্থিত র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক কাইয়ুমুজ্জামান খানকে নির্দেশনা দেন যাতে অভিযানে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন।

এ সময় কাইয়ুমুজ্জামান মেয়রকে জানান, তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন না। ৬৪ প্রতিষ্ঠানে তারা অতি দাহ্য রাসায়নিক পেয়েছেন। তাদের সতর্ক করেছেন এবং সময়ও দিয়েছেন।