গত এক যুগে ফরিদপুরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন। ওইসব ভবনের মালিকরা সরকারি ভবন নির্মাণ বিধি না মেনেই খেয়ালখুশিমতো ভবন তৈরি করছেন। এতে বহুতল ভবন ও ভবনে বসবাসরত মানুষরা রয়েছেন ঝুঁকির মধ্যে। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, সরকারি আদেশ মানতে বাধ্য করা হবে অবৈধ ভবন মালিকদের।
বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন করাসহ ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলার বিধান থাকলেও ফরিদপুর শহরের বহুতল নির্মাণাধীন ভবনের মালিকরা এসব নীতিমালা তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন দেদার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্র নীলটুলি, ঝিলটুলি, জনতা ব্যাংক মোড়, খাবাসপুর, লক্ষ্মীপুর, আলীপুরসহ যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই রয়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন। এর অধিকাংশ ভবনে নেই অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের ব্যবস্থা।
অন্যদিকে পৌরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা নকশা অনুমোদন করলেও নকশা অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তদারকি করে না। এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু জানান, বর্তমানে পৌরসভা থেকে ভবন নির্মাণে যে নকশার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, তা সরকারি নিয়মের মধ্য থেকে। তবে বিল্ডিং কোড আইন ঘোষণার আগে যেসব ভবন হয়েছে, তা এই আইনের আওতায় নেই। তিনি স্বীকার করেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সঠিক তদারকি সম্ভব হচ্ছে না।
ফরিদপুরের নারী নেত্রী আসমা আক্তার মুক্তা বলেন, শুধু আমরা নই, অনুমোদন ছাড়া তৈরি করা ভবন মালিকরাও কিন্তু জীবনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা দরকার প্রশাসনের।
ফরিদপুরের শাহ ফরিদ রিয়েল এস্টেটের মালিক ওমর আলী খান বলেন, ‘সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি আমাদের বাধ্য করে বিল্ডিং কোড মানতে, তাহলে কেন নিয়ম মেনে করব না।’
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, এই জেলা শহরে দুই শতাধিক ভবন রয়েছে, যার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশরই বৈধ অনুমোদন নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ফায়ার স্টেশনের ছয়তলা পর্যন্ত আগুন নেভানোর ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এর বেশি উঁচু ভবনে কোনো বিপদ ঘটলে কী হবে বলতে পারছি না।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া ফরিদপুরের বহুতল ভবন মালিকরা বিল্ডিং কোড ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন না নিয়ে ভবন করছেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে বহুতল ভবন করতে হলে অবশ্যই সরকারি নিয়মের মধ্যে করতে হবে, এর ব্যতিক্রম কেউ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।