খুলনা গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনে কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে পাঠদান। এতে প্রায় ১১০০ শিক্ষার্থী আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে। অর্ধশত বছরের পুরনো ভবনের পাশাপাশি পরে নির্মিত দুটি ভবনেরও ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। এখন ছাদ সংস্কার করা হলেও যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে।
নগরীর ফুলবাড়ী গেটের তেলিগাতী এলাকায় ১৯৬৭ সালে ৪ দশমিক ৪৪ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে খুলনা গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুল। সেই সময়ে নির্মাণ করা হয় দ্বিতল প্রশাসনিক কাম অ্যাকাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস এবং প্রধান শিক্ষকের ভবন। ১৯৯২ সালে দ্বিতল ভবনটির ছাদ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এর দোতলার ছাদ ভেঙে নিচতলা ব্যবহার করা হয়। পরের বছর আরেকটি দ্বিতল অ্যাকাডেমিক ভবন ও ২০০০ সালে একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে দুটি ভবনেরই পলেস্তারা খসে পড়েছে। প্রধান শিক্ষকের ভবনটি ২০১০ সালে অকেজো ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু এখনো সেটি অপসরণ করা হয়নি।
শিক্ষকরা জানান, ২০১৪ সালের এপ্রিলে ক্লাস চলাকালে অ্যাকাডেমিক ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনের দোতলার ছাদের কিছু অংশ ভেঙে নতুন করে ছাদ দেওয়া হয়। এখন প্রথম তলার ছাদটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। খসে পড়ছে পলেস্তারা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিচতলার ১০৬ নম্বর কক্ষে হঠাৎ ছাদের দুটি অংশ ভেঙে পড়ে। তবে ক্লাসে শিক্ষার্থী না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেনি। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে কিছু সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
জানতে চাইলে সপ্তম শ্রেণির এমডি আবদুল্লাহ আল ফায়াদ বলে, ‘ছাদ খসে পড়ার ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হয়। বেশ ভয় করে।’ অষ্টম শ্রেণির প্রত্যাশা ম-ল ও নবম শ্রেণির ফামিয়া আমরিন বলে, ‘আমাদের ক্লাসের সংখ্যা কম। তাই ক্লাস করতে বেশ সমস্যা হয়।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, পুরাতন ভবন সংস্কার করে কোনো ফল হবে না। কদিন বাদে আবার নষ্ট হবে। এই টাকাগুলো পানিতে যাবে। এর থেকে ভালো নতুন ভবন নির্মাণ করা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোছাম্মৎ খালেদা খানম বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর অবস্থা খুবই নাজুক। শ্রেণিকক্ষ সংকটও তীব্র। পুরাতন ভবনগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি অবহিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।