দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সহকারি প্রক্টর ড. মো. মাহবুব হোসেনকে বহিস্কারের দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে।
সোমবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশ এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাছে গিয়ে শেষ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাঞ্চিত করার অভিযোগ এনে সুবিচার ও সহকারি প্রক্টর ড. মো. মাহবুব হোসেনের বহিষ্কার দাবি জানায় ছাত্রলীগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, হাবিপ্রবির ১৮ ব্যাচের সৌরভ কুন্ডুর সাথে একই ব্যাচের এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রবিবার ক্যাম্পাসে সৌরভ কুন্ডুর প্রেমিকাকে ১৬ ব্যাচের এক ছাত্র উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন হল ও শেখ রাসেল হলের ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এতে ২০ থেকে ২৫ জনের মত আহত হয়।
সংঘর্ষের আকার বড় হতে শুরু করলে বিষয়টি থামানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের কর্মীরা এগিয়ে আসে। সেই সাথে বিষয়টি মিমাংসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব হোসেন দু’পক্ষের সাথে কথা বলে থামানোর চেষ্টা করেন।
ডরমেটরি-২ হল শাখার ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য মো. গোলাম সারোয়ার ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রী উত্ত্যক্তের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব হোসেন স্যারের গায়ে কে বা কাহারা হাত তোলে আমরা তা জানি না। কিন্তু তার গায়ে হাত তোলার বিষয়টি তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর দোষ চাপিয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় এমনটা হচ্ছে। তিনি কমিটি দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আহ্বান জানান।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে ছাত্রলীগের অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৭ এপ্রিল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলের ছাত্রদের মধ্যে একটি অনাকাঙ্খিত সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাময়িক অস্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হয়। এমতাবস্থায় ছাত্রলীগ এর নেতৃবৃন্দ সংঘর্ষ নিরসনকল্পে এবং ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রন করে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য অবিচল অবস্থান গ্রহন করে।
উল্লেখিত ছাত্র সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ড. মো. মাহবুব হোসেন, সহযোগি অধ্যাপক, ইসিই বিভাগ, হাবিপ্রবি অত্যন্ত অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজ করতে করতে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের দিকে তেড়ে আসেন এবং একজন ছাত্রলীগ কর্মীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ঐ যে মাঠ আছে, ওখানে গিয়ে যতখুশী তোরা মারামারি কর। ওটা মারামারির জন্য দেওয়া আছে।
ছাত্রলীগের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার এ সমস্ত অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ করে তার পরিচয় জানতে চাইলে উনি বলেন, ‘তোদের মত দুই পয়সার ছেলেকে আমার পরিচয় দিতে হবে ?’ এই কথা বলে একজন ছাত্রলীগ নেতার ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং কোমরে হাত দিয়ে ছাত্রলীগকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এই ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ ও অপমানিত বোধ করছে এবং নেতাকর্মীদের লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে সেই শিক্ষকের বহিস্কার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রক্টর ড. মো. মাহবুব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সবাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই বিষয়টি দেখেছেন। আর ছাত্রলীগের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বলেও জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব ছোট্ট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমার কাছে ছাত্রলীগের একটি অভিযোগপত্র এসেছে। আমি ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দিয়েছি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে সেই কমিটি একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।
তারপর প্রতিবেদন অনুযায়ী অপরাধীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।