ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে আইনবহির্ভূত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার রাজধানীতে এক সেমিনারের তিনি একথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন (আইইবি) কাউন্সিল হলে 'ভবনের কর্মদক্ষতা ভিত্তিক অগ্নি সুরক্ষা: বর্তমান প্রেক্ষিত' শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি।
হানিফ বলেন, কোনো কয়েদিকে আইনগতভাবে যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়, খালেদা জিয়াকে তার চেয়েও বেশি আইনবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পৃথিবীতে এমন কোনো নজির আছে কি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী নিরাপরাধ ব্যক্তিকে জেলে কাটাতে হয়? সেটাও খাটছেন একজন নিরহ মহিলা, যিনি বেগম জিয়ার ইচ্ছানুযায়ী কারাবাস করছেন।
খালেদার জিয়াকে প্যারোলে নয়, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে- বিএনপি নেতাদের দাবির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, খালেদার প্যারোলে মুক্তির কথা কোত্থেকে কীভাবে আসছে আমার জানা নাই? খালেদা জিয়া আবেদন করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবেচনা করতে পারে। এর বাহিরে আইনী প্রক্রিয়াই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আন্দোলন করে মুক্ত করা যাবে না।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নামে বিএনপি রাজনীতি করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের রাজনীতির আর কোনো ইস্যূ নেই। বনানীর অগ্নিকান্ড মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে মন্তব্য করে হানিফ বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য আগুনের নিরাপত্তটা নিশ্চিত করা। যাতে আমাদের ভবনে আগুন না ধরে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ভবনগুলোকে সেই অনুযায়ী তৈরি করতে হবে।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভবনে অগ্নিকান্ড হয় শর্ট সার্কিট কিংবা গ্যাসের চুলা থেকে। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে ও ও দলটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুসস সবুরের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্ অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর।
বক্তৃতা করেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহম্মেদ খান প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে অগ্নিনিরাপত্তায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘ফায়ার প্রোটেকশন’ বিষয় চালুর পরামর্শ দেন উপাচার্য নূর। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি যেমন গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে তেমনই আনুষাঙ্গিক বিষয়াদিও খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি আগুন লাগলে বাসিন্দাদের ভবন থেকে বের হতে কতক্ষণ লাগবে তাও ঠিক করতে হবে নির্মাণের সময়ই।