চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গৃহকর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫

সাভারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহকর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোররাতে সাভার পৌর এলাকার রাজাবাড়ি, গেন্ডা, কাতলাপুর ও ভাগলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাট থানার টাঙ্গাপাড়া গ্রামের আজাহার সরদারের ছেলে মো. মিরাজ সরদার (৩২), কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার পীর মাহমুদ গ্রামের নাবুল হোসেনের ছেলে মো. মোক্তার হোসেন (২৯), গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার শান্তিরাম গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে মাহবুব (৪২), বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানার পতিহার গ্রামের আক্কাস আলী গোমস্তার ছেলে মো. মতি গোমস্তা (৫৫), কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার খামার টগরপুর পাইকপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম (২৪)। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে।

এছাড়া ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১০ মার্চ সকাল সাড়ে ৭ টায় ওই নারীকে সাভারের দক্ষিণ দরিয়ারপুর এলাকার জে.কে ফেব্রিকস নামের তৈরি পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকরির কথা বলে ডেকে নেয় মিরাজ সরদার। এরপর সকাল সোয়া ১০ টার দিকে তাকে পাশের রাজাবাড়ি মহল্লার খায়ের হাজির বাড়ির ৫ তলায় নিজের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মোক্তার হোসেন, মাহবুব, মতি গোমস্তা, রাকিবুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি ওই কক্ষে আসে। প্রায় পনেরো মিনিট পর মতি গোমস্তা ও রাকিবুল ইসলামসহ অজ্ঞানামা ব্যক্তিরা ওই কক্ষের বাইরে অবস্থান নেয়। এ সময় মো. মিরাজ সরদার, মো. মোক্তার হোসেন, ও মাহববু ওই কক্ষের ভেতর থেকে আটকে দেয়। পরে তারা ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছার ঘরের মেঝেতে ফেলে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

এঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানায় তিনি একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো এমারত হোসেন বলেন, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।