চট্টগ্রামে মোবাইল ফোন চুরিতে ‘প্রশিক্ষিত’ চক্র

বন্দরনগরীতে মোবাইল ফোন চুরিতে সক্রিয় প্রশিক্ষিত চক্র। শহরকে বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে তৎপর তারা। চুরির জন্য বেছে নেয় গণপরিবহন, ভিড় কিংবা যানজট। দুই আঙুলের কৌশলে ফোনসেট হাতিয়ে মুহূর্তেই গ্রুপের অন্য সদস্যের কাছে পাচার করে দেয়। পুরো ঘটনা ঘটতে সময় লাগে দুই থেকে তিন মিনিট। এতে জড়িত অধিকাংশের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছর। সম্প্রতি নগরীর কোতোয়ালি ও সদরঘাট থানায় ধরা পড়া ফোন চোর ও ছিনতাইচক্রের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন নয়টি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মোহসিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরে মোবাইল ফোন চুরি হলে কোনো না কোনোভাবে এ নয়টি চক্রের সম্পৃক্ততা মিলছে। অভিযানে এসব চক্রের সদস্যরা ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে জড়িয়ে পড়ছে পুরনো অপরাধে।’ সদরঘাট থানার ওসি নেজামউদ্দিন বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ী এদের অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখে। কখনো নিজেরা চুরি করে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে দিয়ে আসে। আমরা অভিযান চালিয়ে চোরের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করছি।’ সম্প্রতি নগরীর জিইসি মোড়ের একটি মার্কেট থেকে এক বিচারকের মোবাইল ফোন খোয়া যায়। এর দায়ে ধরা পড়া আবুল কাশেম মইজ্জা চট্টগ্রামে ফোন চুরির সিন্ডিকেট সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি এর কৌশল জানায়। তার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চক্রের মূল হোতারা চুরির জন্য নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে নয়ভাগে ভাগ করেছে। এসব গ্রুপে রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য। পাশাপাশি কয়েকটি ছোট গ্রুপও আছে।

পুলিশ জানায়, নগরীর টাইগারপাস থেকে নিউ মার্কেট পয়েন্টে চক্রের প্রধান হাতকাটা ইদু। তার নিয়ন্ত্রণে ছিনতাইকারীদের কয়েকটি দল ও একাধিক চোরচক্র আছে। দলের সদস্যদের দৈনিক ৫০০, সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন উপলক্ষে বোনাস দেয় ইদু। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। নগরের ‘মোবাইল চুরি মার্কেট’ হিসেবে পরিচিত তামাকুম-ি লেনের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চুরি হওয়া ফোন বিক্রিতে জড়িত বলে পুলিশের ভাষ্য।

পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য, নগরীর কাজীর দেউড়ি থেকে নিউ মার্কেট পয়েন্টের নেতৃত্বে রয়েছে পিচ্চি শাহাবুদ্দিনের একটি গ্রুপ। ষোলশহর ২ নম্বর গেট থেকে জিইসি মোড় পয়েন্টের নেতৃত্বে আজাদের গ্রুপ। গত ৪ মার্চ সদরঘাট থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার জসিমউদ্দিন প্রকাশ লাল জসিমের বরাতে ওসি নেজামউদ্দিন বলেন, “একেকটি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা পাঁচ থেকে সাতজন। অভিজ্ঞ একজনের হাতে থাকে ফোন চুরির মূল দায়িত্ব যাকে বলা হয় ‘মিস্ত্রি’। অন্যরা পরিচিত হেলপার হিসেবে। হেলপারদের কাজ ভিড়ের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা; এতে মিস্ত্রির পক্ষে চুরি করা সহজ হয়।”