সময়টা অস্থির করে তুলেছে তাসকিন আহমেদকে। বিশ্বকাপের দলে থাকতে নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ম্যাচ ফিট কি না সেই প্রশ্নের জবাব মাঠে নেমে দিতে চান। কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা চলছিল। কেবল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ তাকে আজ থেকে মাঠে নামাতে রাজি হলো। দলটাও দারুণ। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে। তাসকিন তাদের হয়েই আজ নেমে পড়ছেন মাঠে।
১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। এই দিনটি বড় কষ্ট দিয়েছে তাসকিনকে। বিপিএলে রুদ্রমূর্তিতে ছিলেন। নিউজিল্যান্ডগামী টেস্ট আর ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিলেন। কিন্তু ওই দিনটিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি সিলেটের হয়ে খেলতে নেমে ফিল্ডিংয়ে গোড়ালির ইনজুরিতে পড়লেন। ওই চোট দুটি মাসের বেশি সময় কেড়ে নিল নিষ্ঠুরভাবে। তাতেই তাসকিনের মে-জুলাই ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে সংশয়।
গত বৃহস্পতিবার থেকে বল হাতে পেয়েছেন। সোমবার প্রথম পুরো রানআপে বল করছেন। আর আজ মাঠে নামার আগে গতকাল মিরপুরে বোলিং অনুশীলনের পর উত্তেজনা ছড়াচ্ছিল তাসকিনের কণ্ঠ, ‘এটাই আমার স্বপ্ন, এটার জন্যই এত কষ্ট করছি। শুকরিয়া আল্লাহর কাছে, খেলার অনুমতি পেয়েছি। আল্লাহ চাইলে আগামীকাল (আজ) থেকে খেলতে নামব।’ সবার কাছে দোয়া চাইছেন ২৪ বছরের আগ্রাসী ডানহাতি ফাস্ট বোলার। উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব মিরপুরে নিশ্চিতভাবে আজ টের পাবে তাসকিনের বোলিংয়ের উত্তাপ।
চোটের দিন ২২ উইকেট নিয়ে বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন। প্রায় আড়াই মাস মাঠের বাইরে থেকে আবার নেমেই তখনকার সেই ছন্দ পাওয়া কঠিন। তার ওপর মাথায় কত চাপ। সেই চাপের কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিলেন তাসকিন, ‘ভালো না করলে সুযোগ পাব না। ফিট না থাকলে সুযোগ পাব না। তবে এটা একটু বেশি চাপের। কারণ বিশ্বকাপ তো আমার স্বপ্নের। এটা বড় আসর। এখানে ফিট না হলে সুযোগ পাব না।’
লিগের শীর্ষ দল রূপগঞ্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা তাসকিনের। অন্যরা সুপার লিগ থেকে খেলাতে চেয়েছে তাকে। চোটের কারণে প্লেয়ার্স ড্রাফটে ছিলেন না। ‘রূপগঞ্জকে এই জন্য ধন্যবাদ যে ওরা কাল (আজ) থেকে খেলাতে রাজি হয়েছে’ স্বস্তি নিয়ে ফেরেন তাসকিন।