রাজধানীর ডেমরার ডগাইর এলাকার নূরে মদিনা মাদ্রাসার ছাত্র মনির হোসেনকে (৮) হত্যার সঙ্গে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষার্থী জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
অধ্যক্ষ ও এক শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত অপর শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে।
বুধবার ওয়ারী বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানান।
এতে বলা হয়, অধ্যক্ষ নিজের কক্ষেই শিশুটিকে আটকে রেখেছিল। কান্নাকাটি করায় তাকে ৮ এপ্রিল রাতে হত্যা করে মসজিদের একটি ফ্লোরে রেখে আসে দুই শিক্ষার্থী।
গত ৭ এপ্রিল নূরে মদিনা মাদ্রাসার ছাত্র মনিরুল ইসলাম মাদ্রাসা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় মসজিদ থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।
তারা হলেন- নূরে মদিনা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল হাদী ওরফে হাদিউজ্জামান। তাকে সহযোগিতা করে তারই দুই ছাত্র মোহাম্মদ তোহা ও আকরাম হোসেন।
মনির ওই মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্র ছিল। মঙ্গলবার মনিরের বাবা সাইদুল হক ওই তিনজনকে আসামি করে ডেমরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মনিরের বাবা সাইদুল হক বলেন, “রোববার সকালে তিনি ছেলেকে মাদ্রাসায় রেখে আসেন। বিকেলে আনতে গেলে মাদ্রাসা থেকে বলা হয়, ছেলে বাসায় চলে গেছে। এরপর সন্ধ্যায় তার কাছে ফোন করে ছেলেকে অপহরণের কথা জানিয়ে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়।”
তিনি বলেন, “টাকা মসজিদের খাটিয়ার নিচে রেখে যেতে বলে। অনেক কষ্টে এক লাখ টাকা খাটিয়ার নিচে রাখি। কিন্তু রোববার সেই টাকা কেউ নেয়নি।”
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শিশুটিকে হত্যায় জড়িত নূরে মদিনা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল হাদী ওরফে হাদিউজ্জামান। তাকে সহযোগিতা করে তার দুই ছাত্র মোহাম্মদ তোহা ও আকরাম হোসেন।
পুলিশের ওয়ারী জোনের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হাদী মসজিদটির ইমামের দায়িত্ব পালন করেন। অপহরণের পর শিশুটিকে মসজিদে তার কক্ষেই আটকে রাখা হয়। কান্নাকাটি করায় মুক্তিপণ না নিয়েই তাকে সেখানে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরপরই অধ্যক্ষ আবদুল জলিল হাদীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তার সহযোগী হিসেবে অপর দুই ছাত্রের কথাও জানিয়েছেন।
ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলে, “শিশুটিকে রোববার বিকেলে মাদ্রাসা ছুটির পর অপহরণ করা হয়। এরপর মুক্তিপণ চাইলে শিশুটি কান্নাকাটি করে। এজন্য তাকে ওই রাতে হত্যা করা হয়।”