পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ নিয়ে প্রথমে দুই কর্মীর মধ্যে কথাকাটাকাটি, এরপর হাতাহাতি, তারপর রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একজনকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বাকিরা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ রাখা হয় বুধবারের সব ধরনের পরীক্ষা।
পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে কৃষি অনুষদের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দুটি আঞ্চলিক পক্ষের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায়ও সংঘর্ষ হলে শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিয়ে আলোচনায় বসে। কিন্তু তাতে সমাধান না হওয়ায় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ময়মনসিংহ অঞ্চল (বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক পক্ষ) ও উওরবঙ্গ অঞ্চলের মধ্যে হাতাহাতি, পরবর্তীতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
এতে উওরবঙ্গের একজনসহ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১৭ জন আহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে কিছুক্ষণ পর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের সামনে শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ একত্রিত হয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উওরবঙ্গ পক্ষের ওপর হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় শেরেবাংলা ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের বেশ কিছু কক্ষ।
সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান দাবি করেন, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের উদ্ধত আচরণে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
তবে উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের নেতা আশেক আসিফ বলেন, ন্যায্য অধিকার চাইতে গেলে মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষ পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফরহাদ হোসেন সংঘর্ষের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি আহতদের হাসপাতালে দেখ গেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে কথা বলবেন।