ফেনীর সোনাগাজীতে আবু সালেহ মিম (২৩) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে দুর্বত্তরা। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌরসভার চর গণেশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্বজনরা জানান, আবু সালেহ মিম ঢাকার পলিটেকনিক্যালে ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত রোববার তিনি বাড়ি আসেন।
গতকাল সন্ধ্যায় চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে আবু সালেহ মিমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উঠানে পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় তার শরীরের পোশাক কেরোসিন তেলে ভেজা দেখতে পান স্বজনরা।
একপর্যায়ে বাড়ির লোকজন তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহতের বোন বলেন, “কেরোসিন ঢেলে আগুন দিতে চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা, কিন্তু লোকজন এসে পড়ায় তারা আর আগুন দিতে পারেনি।”
ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবু তাহের বলেন, “ছেলেটির অবস্থা খারাপ। এজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা জানিয়েছি।”
এর আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরেই তিন তলা ভবনের ছাদে নিয়ে শরীরে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নুসরাত জাহান রাফি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
নুসরাত শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে থানায় মামলা করলে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, অধ্যক্ষের পক্ষের লোকই পরিকল্পিতভাবে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগায়।