এই তরুণীর অ্যালগরিদম নিয়ে ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাজাগতিক রহস্যময় ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ব্ল্যাক হোলের এ ছবি তোলার পেছনে আছেন কেটি বুম্যান নামে এক তরুণী। 

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন বুধবার এ ছবি প্রকাশ করে। যদিও এত দিন ব্ল্যাক হোল নামে কিছু আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক ছিল।

মার্কিন হেভি ডটকম নামে একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে যে অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছেন সেটি তৈরি করেছেন কেটি।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পড়াশোনা শেষ করেন ২৯ বছর বয়সী কম্পিউটার বিজ্ঞানী কেটি। ম্যাসাচুসেটসে থাকতেই এই অ্যালগরিদমের ফর্মুলা দেন তিনি।

সিএনএন জানায়, কেটি তিন বছর আগে এমন একটি অ্যালগরিদম সৃষ্টি করেন। যার মাধ্যমে তিন বছর আগে ছবি তোলার একটি পদ্ধতি খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। এটি দিয়েই রহস্যময় ব্ল্যাকহোলের ছবি তুলতে সক্ষম হন তারা।

ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে গত কয়েক বছর ধরে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ কলাবোরেশন নামে বিজ্ঞানীদের একটি দল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। ২০০ জনেরও অধিক বিজ্ঞানীর দলে কেটিও  ছিলেন একজন।

৩ বছর ধরে ছবি শনাক্তকরণের নির্দেশনা, এর জন্য প্যারামিটার নির্বাচনের পেছনে যুক্ত ছিলেন বিজ্ঞানীদের দলটি। আটটি টেলিস্কোপ দিয়ে ‘বিক্ষিপ্ত ও গোলযোগপূর্ণ’ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হন তারা।

কেটি সিএনএনকে বলেন, “সিনথেটিক তথ্য উৎপন্ন করে এবং ভিন্ন ভিন্ন অ্যালার্মের মাধ্যমে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলাম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে। প্রক্রিয়াটি আমরা একটা অ্যালগরিদমের  মধ্যে আনতে চাইনি। আমরা ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো অ্যালগরিদম সৃষ্টি করি। যাতে আলাদা আলাদা ধারণা থেকে একটি ফলাফলে পৌঁছানো সম্ভব হয়।” 

অ্যালগরিদমের সৃষ্টিতে তার একার অবদানকে অস্বীকার করতে চান তিনি। কেটি বলেন, “এটি আমাদের কারও একার কাজ ছিল না। অনেক জায়গা থেকে আসা নানান ধরনের মানুষের প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।”