নুসরাতের মৃত্যু: সন্দেহভাজন ‘শম্পা’র ৫ দিনের রিমান্ড

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আরও দুজনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। তারা হলেন ‘শম্পা’ সন্দেহে আটক উম্মে সুলতানা পপি ও মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামি যোবায়ের হোসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। তাদের ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন।

সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে নুসরাতের দেওয়া বক্তব্যে উঠে আসা ‘শম্পা’ সন্দেহে এক তরুণীকে মঙ্গলবার সকালে আটক করা হয়। তবে আটক ওই তরুণীর নাম উম্মে সুলতানা পপি।

উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে পপি। তিনি নুসরাতের শ্লীলতাহানির মামলায় গ্রেপ্তার অধ্যক্ষ সিরাজের শ্যালিকার মেয়ে। পপিও একই মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষার্থী।

সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল বলেন, ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দেওয়ার সময় কাউকে ‘শম্পা চল’ বলতে শোনা গেছে বলে চিকিৎসকদের কাছে তথ্য দিয়েছেন নুসরাত। সেই সূত্রে তাকে আটক করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে মারা যান নুসরাত। এর আগে শনিবার গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তিনি বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন। সোমবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে শনিবার সকালে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরেই তিন তলা ভবনের ছাদে নিয়ে শরীরে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। চারজন বোরকা পরে এ হত্যাচেষ্টায় অংশ নেয় বলে নুসরাত জানায়। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই গভীরভাবে দগ্ধ।

এর আগে ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় থানায় মামলা করলে গ্রেপ্তার হয় অধ্যক্ষ।

নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, অধ্যক্ষের পক্ষের লোকই পরিকল্পিতভাবে নুসরাতকে হত্যা করতে চেয়েছি