বহিরাগত লোক এনে সহপাঠীকে মারধরের ঘটনায় ইবি ছাত্রলীগ কর্মী আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আকাশকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফেসবুক গ্রুপ ম্যাসেঞ্জারে বাক-বিতণ্ডার জেরে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত এই সিদ্ধান্তে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।
রেজিস্ট্রার জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলে বহিরাগতদের নিয়ে এসে আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান আকাশ তারই বন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র হোসনে মোবারক সাগরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
মারধরের ঘটনায় আহত সাগর বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বুধবার রাতেই আকাশকে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন।
ঘটনার অধিকতর তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয় এবং আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ছাত্রলীগ কর্মী আকাশ এবং সাগরের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় আকাশ তারই বন্ধু সাগরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। কিছুক্ষণ পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশ ৭-৮জন স্থানীয় অছাত্র বহিরাগতদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু হলে এসে হলের আবাসিক ছাত্র সাগরকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
বিষয়টি হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে ধাওয়া করলে বহিরাগতরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আকাশকে আটক করে লিখিত অভিযোগসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়।
প্রক্টর ড. নাছির উদ্দিন আজহারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আবাসিক ছাত্রকে মারধরের সংবাদ পেয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ এবং হলের আবাসিক শিক্ষক শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেখানে আহত ছাত্রকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে আহত ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে তা একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, ইবি ছাত্রলীগ কর্মী আকাশ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বহিষ্কারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা নিয়ে কিছু বলার নাই।
তবে বহিষ্কৃত ছাত্র আকাশের মুঠোফোনে কল করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।