কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা চেয়েছেন এক শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচারণে বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। অপরদিকে অভিযুক্তদের দাবি, ছাত্রশিবির করায় ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে।
গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর বৃহস্পতিবার বিকালে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগে নিরাপত্তা চেয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বুধবার রাত ৮টায় ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১১তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান বিদ্যুৎ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হাসান হিমেল।
এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচারণ করলে শরিফ তাতে বাধা দেন। এ সময় শরিফকে বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগের দুই নেতা। এতে শরিফের কপালের একাংশ ফেটে যায়। দৌড়ে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে গেলে সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা শরিফকে পার্শ্ববর্তী একটি মেডিকেল সেন্টারে নিলে তার কপালে চারটি সেলাই করা হয়। জানা যায়, ঘটনার সময় থাকা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ঐ ছাত্রী নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের ছাত্রলীগ কর্মী।
ভুক্তভোগী শরিফ বলেন, ‘হিমেল আমার এক ব্যাচ জুনিয়র। তাকে আমি ঠিকভাবে চিনিও না। বিদ্যুৎ ভাই আমাদের ডাকলে আমরা তার সঙ্গে যাই। এরপর হিমেল আমার সঙ্গে থাকা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক ছোট বোনের সঙ্গে অসদাচারণ করতে চাইলে আমি বাধা দেই। এতে হিমেল ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে মারধর করে। সিনিয়র হয়ে জুনিয়রের হাতে মার খাওয়া লজ্জার।’
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা হাসান বিদ্যুৎ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি তাকে (শরিফ) বাঁচানোর চেষ্টা করি এবং ওই ছাত্রী ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে ছিল। আমি তো ওই ছাত্রীকে বাঁচাতে চেয়েছি।’
কিছুক্ষণ পর তিনি আবার ফোন দিয়ে মারধর করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘শরিফ শিবির করে তাই আমরা দুইজন মিলে তাকে মারধর করেছি।’ একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত হিমেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘মারধরের পর আমি ছেলেটিকে দেখে প্রাথমিক চিকিৎসার খরচের ব্যাবস্থা করেছি। এ বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’ অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে প্রশাসনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেব।’