সীমান্তে মা আর শিশুকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত কর্মকর্তারা। সে মুহূর্তে ভয়ে চিৎকার করে কাঁদছে এক শিশু। বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো পুরস্কার জিতে নিল এমন একটি ছবি।
এনডিটিভি জানায়, গত বছর ছবিটি তোলেন ফটো এজেন্সি গেটি ইমেজেসের জন মুর। এ ফটোগ্রাফারের তোলা ছবিটি 'মানসিক সহিংসতার' অন্যরূপ দেখিয়েছিল গোটা বিশ্বকে।
হন্ডুরাসের অধিবাসী সান্দ্রা সানচেজ এবং তার মেয়ে ইয়েনেলা অবৈধভাবে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেছিল। সে সময় তাদের আটক করে মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তারা।
তবে মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার সুরক্ষা কর্মকর্তারা পরে বলেছিলেন, যাদের সন্তানদের থেকে আলাদা করা হয়েছিল সেই দলের মধ্যে ছিল না ইয়েনেলা ও তার মা। তবে বাবা-মা থেকে সন্তানদের আলাদা করে ফেলার এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্ত নীতি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
গত বছর মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসীদের ঢল নামে। যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে বাধা দিতে হাজার হাজার অভিবাসী এবং তাদের সন্তানদের আলাদা করে ফেলা হয়। সে সময় আতঙ্কে চিৎকার করে কাঁদা শিশু ইয়েনেলার ছবি বিশ্ববাসীকে নাড়া দেয়।
১২ জুন রিও গ্র্যান্ডে উপত্যকায় রাতে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টদের ছবি তুলছিলেন মুরে। সেখানেই সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল অভিবাসী একটি দল।
মার্কিন এক রেডিওতে মুরে বলেন, “আমি ওদের চোখে ভয় দেখতে পাচ্ছিলাম, ওদের মুখে এক ভয়ের ছায়া দেখতে পাচ্ছিলাম।"
মুরে এক দশক ধরে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে কাজ করছেন। সেই রাতে সান্দ্রা সানচেজ এবং তার বাচ্চাটিকে একধারে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি হাঁটু গেড়ে বসে যাই, খুব কয়েক মুহূর্তের মধ্যে খুব অল্প ফ্রেমে ওই ছবিটা ওঠে। আমি অন্যরকমের এক গল্প বলতে চেয়েছিলাম।"
৫১ বছর বয়সী এ ফটোগ্রাফার বলেন, “আমার কাছে এটা মানবতার দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করার একটি সুযোগ ছিল। আমি মনে করি, অভিবাসনের সমস্যা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নয়, সারা বিশ্বের।”
এদিন ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো স্টোরি অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড' জিতে নেয় ২০১৮ সালে ডাচ-সুইডিশ ফটোগ্রাফার পিটার টেন হুপেনের তোলা মার্কিন সীমান্তে অভিবাসী ক্যারাভেনের ছবিটি।
আমস্টারডামের আয়োজকেরা জানান, বিশ্বজুড়ে ৪৭৩৮ জন ফটোগ্রাফারের তোলা ৭৮৮০১ টি ছবির মধ্যে থেকে এই বছরের বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছে।