পাবনায় বৈশাখী উৎসবের দাওয়াতপত্র বিতরণ করতে গেলে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আরো ছয়জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার হাড়িয়াবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত কলেজছাত্র শৈশব সাহা পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও পাবনা পৌর এলাকার সিঙ্গা পালপাড়ার চাউল ব্যবসায়ী ভজেন্দ্র নাথ সাহার ছেলে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পাবনা সদরের মালঞ্চি ইউনিয়নের হাড়িয়াবাড়ি এলাকায় স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও বাবু ওরফে কটা বাবু পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মামুন গ্রুপের শৈশব সাহাসহ ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে ১০/১২ জনের একটি দল বৈশাখী উৎসবের দাওয়াতপত্র বিতরণ করতে হারিয়াবাড়ি গ্রামে যায়। এ সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে কটা বাবুর নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়।
তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা তাদের এলোপাতাড়ি মারপিট ও কুপিয়ে জখম করে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে কলেজছাত্র শৈশব মারা যান। আহত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি আরো জানান, এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা চলছে।
এ বিষয়ে একপক্ষের নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈশাখী উৎসবের জন্য আমাদের লোকজন দাওয়াতপত্র বিলি করছিল। এ সময় কটা বাবুর লোকজন হামলা করে শৈশবকে হত্যা করেছে। তারা ছয়টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ ছয়-সাতজনকে মারাত্মক আহত করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে অপরপক্ষের নেতা কটা বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।