সাভারে কুপিয়ে হত্যার পর ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হুমায়ূন কবির সরকারের মরদেহের কোন সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পর থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা নিহতের মরদেহটি উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় সন্ত্রাসীরা তেতুঁলঝোড়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি এবং গোলাম মোস্তফার ছেলে হুমায়ূন কবির সরকারকে বৃহস্পতিবার কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত নৌকার মাঝি ও তার সহকারীকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছেন।
নিখোঁজের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টার দিকে স্থানীয় আমিনুল, পারভেজ, আলম, আলমগীর, শুকুর ও হান্নান আমার স্বামীকে মোবাইলে কল করে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে স্থানীয় মাছ বাজারে নিয়ে গিয়ে ১০-১২ জন মিলে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে কবির পার্শ্ববর্তী বংশী নদীতে ঝাঁপ দেয়।
সাভার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা লিটন আহমেদ আটক নৌকার মাঝির বরাত দিয়ে বলেন, হুমায়ূন কবিরকে যখন সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় তখন সে প্রাণ বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দেয়। একপর্যায়ে সে নদী সাঁতরে অপর প্রান্তের কাছাকাছি গেলে সন্ত্রাসীরা ট্রলার নিয়ে আবারও তার উপর হামলার চালায়। এ সময় পানিতে থাকা হুমায়ূন কবিরকে কুপিয়ে এবং টেটা দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার করলে তার লাশটি নদীতে তলিয়ে যায়।
এঘটনায় শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন সদস্যের একটি ডুবুরি দলসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিয়ে নিহতের মরদেহটির সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু নদীতে অধিক পরিমাণে কচুরিপানা এবং মাছ আটকানোর ছাটা থাকায় উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন ঘটে। সর্বশেষ শনিবারও থানা-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও নিহতের মরদেহের কোন সন্ধান পায়নি।
সাভার মডেল থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়েছে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে । আটককৃতরা হুমায়ূন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃতদেহের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।