আশুলিয়ায় বাংলা বর্ষবরণ উৎসবে পোশাক শ্রমিক মা ও প্রতিবন্ধী বাবা নতুন পোশাক কিনে দিতে না পারায় অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে আদরী কুমারী (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রী। রোববার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার গোরাট এলাকার আনা মিয়া মন্ডলের মালিকানাধীন ভাড়াটে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আদরী কুমারী লালমনিরহাট জেলার সদর থানা এলাকার কামিনী রায়ের মেয়ে। সে পরিবারের সাথে আশুলিয়া গোরাট এলাকার ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান নয়ন বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই পরিবারের কাছে বৈশাখী পোশাকের জন্য বায়না করছিল আদরী। কিন্তু পোশাক শ্রমিক মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন দরিদ্র বাবার পক্ষে তার বায়না পূরণ করা সম্ভব হয়নি। অভিমানে পয়লা বৈশাখের দিন বিকেলে নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেয় ঐ কিশোরী। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সারা না পেয়ে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আদরীকে দেখতে পায় তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা। বিষয়টি আশুলিয়া থানায় জানানো হলে পুলিশ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তবে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় মৃতদেহটি রাতে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় মৃতদেহের সৎকারের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতারও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।