প্রথমবারের মতো ঢাবিতে হিজড়াদের বৈশাখ উদ্‌যাপন

‘সবার ওপরে মানুষ সত্য’ এই স্লোগান সামনে রেখে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় লিঙ্গ হিজড়ারা বৈশাখী উদ্‌যাপন পালন করেছে। দিনব্যাপী তারা আনন্দ উল্লাস করে অনুষ্ঠানটি পালন করেন।

অনুষ্ঠানটি সহযোগিতা করে উত্তরণ ফাউন্ডেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, মাননীয় ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের  উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) ও উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যার হাবিবুর রহমান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শায়ক ও সমন্বয়কারী এমএম মাহবুব হাসান। 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমেদুল কবির।

পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ল্যাবরেটরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কয়েক শ হিজড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনেকে গান গেয়ে আনন্দ-উল্লাস করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমি স্বীকার করি, এখানে যারা আছেন প্রায় সবাই স্বীকার করবেন যে আমরা তাদের ভাল চোখে দেখি না। আমরা মনে করি তারা আমাদের সমাজের উচ্ছিষ্ট।আমাদের বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টান্তে এগুলো দেখি। কিন্তু তারা যে মানুষ এবং তাদেরও যে মন আছে, তারাও যে আমাদের মতো রক্তে মাংসে গঠিত মানুষ। তাদের সংস্কৃতি দিয়েই কিন্তু আমাদের বাঙালির সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে। তাদের সাপ খেলা, বানর খেলা এবং বিভিন্ন ধরনের কসরত তারা বিভিন্ন সময় দেখিয়ে থাকে। আমাদের সংস্কৃতি কিন্তু তারা সমৃদ্ধ করেছে'।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে দু'জন আছেন, অনন্যা এবং নিশাত। তারা বিদেশ থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসেছে হেয়ার প্লেসিংয়ের ওপর। বাংলাদেশে অন্যকোনো হেয়ার ড্রেসারে এই প্রতিষ্ঠান থেকে এরকম বিশ্বমানের কোনা প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনিং আছে বলে আমার জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে কিন্তু স্বীকৃতি দিয়েছে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে।

তিনি বলেন, আমরা পত্রিকায় দেখেছি যে, বিভিন্ন ফরমে নারী-পুরুষ থাকে তার সঙ্গে আরো একটি অপশন যোগ হবে সেটি  আমাদের নির্বাচন কমিশন নোটিশ দিয়েছে এবং আমরা পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপনে দেখেছি। সুতরাং আমরা সবাই তাদের আমাদের মতো মনে করি। 

অনুষ্ঠানটিতে হিজড়া সম্প্রদায়ের শিল্পীরা বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপণ করেন। এর পাশাপাশি সাপের খেলা ও বানর খেলা নিয়ে হাজির হয় বেদে সম্প্রদায়।

অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ আর্কষণ ছিলো গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় ও বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি তথা হা-ডু-ডু। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যকে মূলধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

শাম্মি হিজড়া দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রথমবারের মতো আমরা ঢাবিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বৈশাখের অনুষ্ঠান করতে পেরেছি। জীবনে কল্পনাও করিনি এভাবে অনুষ্ঠান করতে পারব। সবকিছু হয়েছে উত্তরণ ফাউন্ডেশনের জন্য।  

উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈশাখ উদ্‌যাপন করতে এসে হিজড়াদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ছোঁয়া। সমাজে আজ তারা অবহেলিত নয়। তারা এখন কাজ করে খায়। তাদের আছে এখন বুকভরা স্বপ্ন।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো হিজড়াদের নিয়ে বৈশাখী উদ্‌যাপন করেছি। সমাজের সবাই যাতে হিজড়াদের আপন করে করে নেয় এই জন্য উত্তরণ ফাউন্ডেশন কাজ করছে।