মুসলিমদের এক হতে এবং ভোট দিতে যেতে বলায় ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক সদস্য ও পাঞ্জাবের মন্ত্রী নভজোত সিং সিধুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ওই মামলা হয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন বিহার রাজ্যের প্রধান নির্বাচন বিষয়ক একজন কর্মকর্তা।
ভারতের বিহারের কাতিহার জেলার বারসোই থানায় এই মামলা বলা হয়েছে, সিধু এর মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়েছেন। তিনি মুসলিমদের কাছে ভোট চেয়েছিলেন এই বলে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে থামাতে মুসলিমদের এক হতে হবে এবং ভোট দিতে হবে।
থানার অফিসার চন্দ্র প্রকাশ বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা অমান্য করায় সিধুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায়, সেকশন ১২৩(৩) ধারায় ও ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব বিষয়ক আইনের ১২৫ ধারায় মামলা হয়েছে।
বিহারের কাতিহার লোকসভা আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী তারিক আনোয়ার। তার পক্ষে বলরামপুরে বারসোইতে একটি নির্বাচনী জনসভায় সিধু বক্তব্য রাখছিলেন।
এ সময় তারিক আনোয়ারকে ভোট দেওয়ার জন্য মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিধু বলেন, “মুসলিম ভাইয়েরা আমি এখানে এসেছি আপনাদেরকে সতর্ক করতে। এখানকার জনসংখ্যার শতকরা ৬৪ ভাগই আপনারা। আপনারা সব মুসলিম ভাই আমার ‘পাগড়ি তথা মাথার তাজ’।”
বিজেপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা আপনাদের ভোটকে ভাগ করে জিততে চায়। আপনারা শতকরা ৬৪ ভাগ মুসলিম। এখানে আপনারা সংখ্যালঘু নন। আপনারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। যদি আপনারা সবাই একত্রিত হন এবং ভোট না দেন (তাদের) তাহলেই সব মিটমাট হয়ে যাবে।”
ক্রিকেটীয় ভাষায় তিনি বলেন, “এখন সময় হলো ছক্কা মারার। আর সেই ছক্কায় মোদিকে সীমানার ওপারে পাঠিয়ে দেওয়ার। যদি আপনারা সংহতি প্রকাশ করেন তাহলে কেউই আপনাদের প্রার্থী তারিক আনোয়ারকে পরাজিত করতে পারবে না।”
এভাবে মুসলিমদের কাছে ভোট চাওয়ায় সিধুর ওপর চটেছে বিজেপি। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছে, সিধুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে এবং নির্বাচনে তাকে নিষিদ্ধ করতে।