সুদানে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খার্তুমের কোবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারাগারটিতে অতিরিক্ত পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
কয়েক মাসের অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে গত বৃহস্পতিবার দেশটির দীর্ঘ সময়ের শাসক ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয় সেনাবাহিনী এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর অন্তবর্তীকালীন সামরিক কাউন্সিল দায়িত্ব গ্রহণ করে দুই বছরের মধ্যে বেসামরিক নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার ঘোষণা দেয়।
তবে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়ে একদিন পরেই সামরিক কাউন্সিলের প্রধান প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফও পদত্যাগ করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তিনি বশিরের ঘনিষ্ট লোক।
এদিকে গণতন্ত্রকামীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেসামরিক নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বুধবারও খার্তুমে সেনা সদর দপ্তরের বাইরে তারা বিক্ষোভ করে। দ্রুত বেসামরিক সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে অনড় বিক্ষোভকারীরা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে আন্দোলনকারী ফাইদা খালাফ জানান, ‘আমাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করা হচ্ছে। অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গুলি চালিয়ে আমাদের অনেককে হত্যাও করা হয়েছে। আমাদের দাবির জবাবে এমনটা করা হচ্ছে।’
সরকারি হিসেবে আন্দোলন শুরুর পর থেকে সুদানে ৬৫ জন নিহত হয়েছে। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছে নিহতের সংখ্যা শতাধিক। আন্দোলনকারীরা ভয় পাচ্ছে সেনাশাসিত সরকার হয়তো আন্দোলনকে ছিনতাই করতে যাচ্ছে।
১৯৮৯ সালে ব্রিগেডিয়ার ওমর আল বশির আরও কিছু ইসলামপন্থী সেনাকর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সুদানের ক্ষমতা দখল করেন। তিনিই হচ্ছেন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট। অবশ্য এর আগেও তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তবে সেসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
পাউরুটির দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়েছে আফ্রিকার এই দেশটিতে। মূলত অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বশিরের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। তবে ধীরে ধীরে তা বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে রূপ নেয়।