মিটু আন্দোলনে রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছিলেন তনুশ্রী দত্ত । গত বছর তিনি মুখ খোলার পর থেকে চলচ্চিত্র জগতের নানা মুখ ও মুখোশ খুলে যেতে থাকে। এবার অজয় দেবগনের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেন তিনি।
এনডিটিভি জানায়, সম্প্রতি তনুশ্রী জানিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা ও কাজ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা ভঙ্গ করেছেন অভিনেতা অজয় দেবগন। অভিনেতা অথচ আলোকনাথের সঙ্গে দে দে প্যায়ার দে সিনেমায় কাজ করছেন অজয়।
লেখক ও পরিচালক ভিনতা নন্দাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আলোকনাথের বিরুদ্ধে। তনুশ্রী দত্ত ২০০৮ সালের একটি চলচ্চিত্রের সেটেই যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে।
যৌন হেনস্তাকারী হিসাবে বলিউডের আরও কয়েকজনের নাম বেরিয়ে আসায় অজয় দেবগন টুইট করেন, “আমি মিটু সম্পর্কিত সমস্ত ঘটনা নিয়ে বিরক্ত। আমার প্রতিষ্ঠান এবং আমি নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা ও নিরাপত্তা প্রদানে বিশ্বাস করি। যদি কেউ একজন নারীর বিরুদ্ধে অন্যায় করেন, তবে এডিএফ কিংবা আমি তার হয়ে দাঁড়াবো না।”
তনুশ্রী বলেন, “মিথ্যাবাদী, লোক দেখানো এবং মেরুদণ্ডহীন দ্বিচারী মানুষের ভিড় এখন। অজয় দেবগন সেই মানুষদের মধ্যেই একজন বলে উল্লেখ করেছেন এ অভিনেত্রী।”
এ অভিনেত্রী তার বিবৃতিতে বলেন, “অজয় টুইট করে জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে আর কখনো কাজ করবেন না। এখন বিস্ময়কর বিষয় হল, আলোকনাথের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি এবং বলিউডে ফিরে আসার জন্য তাকে সমর্থনও করছেন।”
তবে অজয় দেবগনের যুক্তি হচ্ছে, আলোক নাথের অভিনীত ওই অংশগুলি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনেক আগেই শুট করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে তনুশ্রী বলেন, “আলোকনাথ যে সিনেমায় রয়েছেন তা পোস্টার এবং ট্রেলার না এলে কেউ জানতেও পারতেন না, তাই নির্মাতারা চাইলে ধীরেসুস্থেই তাকে সরিয়ে দিতে পারতেন এবং তার অংশগুলি পুনরায় শুট করে নিতে পারতেন। ১০-১৫ দিনেই এটি সম্ভব হতো। এতে বিনতা নন্দাকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হতো, আরও অনেক নারীকেই মর্যাদা দেওয়া যেত, যাদের এই লোকটি বিরক্ত করেছেন, কিন্তু তা হলো না!”
আকিব আলি পরিচালিত দে দে প্যায়ার দে সিনেমায় রয়েছেন টাবু, রাকুল প্রীত এবং জিমি শেরগিল। ১৭ মে এই সিনেমা মুক্তি পাবে।