চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অসুস্থ ভাতিজাকে কোলে নিয়ে অস্থির পায়চারি করছিলেন নগরীর পাথরঘাটার বাসিন্দা শিল্পী রানী। শ্বাসকষ্টে ভোগা আড়াই বছরের শিশুটি তখন কাঁদছিল। কিন্তু পরদিন সকালের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এ হাসপাতালে। এ দৃশ্যপট গত বুধবার বিকেল ৪টার। শিল্পী রানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিকেল থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক থাকে না ওয়ার্ডে। তিন দিন আগে ভাইপোকে ভর্তি করিয়েছি। প্রতিদিনই এ অবস্থা। ডাক্তার আসেন শুধু সকালবেলা।’
বন্দরনগরীর দ্বিতীয় বৃহৎ সরকারি সেবাকেন্দ্র চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। নগরী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে সেবা নিতে এ হাসপাতালে আসে রোগীরা। কিন্তু চট্টগ্রামবাসীর কাছে হাসপাতালটি পরিচিতি পেয়েছে ‘এক বেলার হাসপাতাল’ হিসেবে। এখানকার আটটি ওয়ার্ডে চিকিৎসকের দেখা মেলে শুধু দিনের বেলায়। বিকেলে ও রাতে রোগীদের ভরসা মূলত সেবিকারা। বুধবার সন্ধ্যায় গাইনি ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজন খাদিজা খাতুন বলেন, ‘জরুরি বিভাগ থেকে একজন ডাক্তার দেখে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দিয়েছে। ওই ডাক্তার স্যালাইন দিতে বলেছে। কালকে সকালে বড় ডাক্তার আসবে জানিয়েছে। ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া কিছু করার নেই।’
এ হাসপাতালে আছে আটটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই একজনও। আটটি ওয়ার্ড পরিচালনায় কমপক্ষে ২০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন বলে কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিপরীতে বহির্বিভাগে থাকা কয়েকজন কনসালট্যান্ট এবং ধার করা চিকিৎসকের সহায়তায় জোড়াতালি দিয়ে সেবা চালু রেখেছে হাসপাতালটি।
১৯০১ সালে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়। প্রথম পর্যায়ে ৫০ শয্যার হলেও পরবর্তী সময়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১২ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল।
হাসপাতালে আট ওয়ার্ডে দিনে গড়ে ভর্তি থাকে প্রায় ২০০ রোগী। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কান্তি নাথ দেশ রূপান্তরকে জানান, আউটডোর ও জরুরি বিভাগ মিলে বর্তমানে ৩৭ জন চিকিৎসক আছেন। কিন্তু ওয়ার্ডগুলোর জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বহির্বিভাগের চিকিৎসকরাই ওয়ার্ডে সেবা দেন। সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান বাবুল বলেন, ‘জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। যেসব বেসরকারি মেডিকেল কলেজে রোগীর চাপ নেই সেখান থেকে মেডিকেল অফিসার এনে হলেও এই সংকট কাটানো উচিত।’