রাজধানীর কলাবাগান থেকে অপহরণের ছয় দিন পর অপহৃত মো. মেহেদী হাসান রায়হান (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে রাব-৪ এর সদস্যরা।
বুধবার রাত সাড়ে ১০ টায় সাভারের আমিন বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সাভার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর বলেন, চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রায়হান গত ৮ এপ্রিল রাত ১১ টার দিকে রাজধানীর কলাবাগান থেকে নিখোঁজ হন।
এরপর গত বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে র্যাব-৪ এর একটি দল অভিযান সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত রায়হানকে উদ্ধার করা হয়।
এসময় অপহরনকারী চক্রের পাঁচ সদস্য আজিজুল হাকিম (৪০), লিটন মোল্লা (২৬), কাজল বেগম (২৬), নজরুল ইসলাম নবু (৪২) ও নুরু মিয়া ওরফে নুর ইসলাম ওরফে কাকা ওরফে মোল্লা(৬২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণকাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগান থেকে রায়হান তার পূর্ব পরিচিত মো. বাহারের (পলাতক আসামী) প্রাইভেটকারে চড়ে এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে আমিন বাজারস্থ এলাকার অজ্ঞাতনামা একটি ভবনে গেলে রায়হানকে আটক করেন অপহরণকারীরা। তার হাত ও চোখ-মুখ বেঁধে ৬ দিন ধরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মারধরের শব্দ ও কান্নার চিৎকার শুনিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে ভিকটিমকে খুন করার হুমকি দিতে থাকে।
পরবর্তীতে অপহরণকারীরা তাদের মোবাইল নম্বর থেকে ভিকটিমের বাবা ও বোনের নম্বরে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ রফা করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত র্যাব ৪ এর মেজর কাজী সাইফ উদ্দিন বলেন, প্রাইভেটকারের চালক বাহার এই অপহরণ চক্রের মূল হোতা। সুন্দরী তরুণীর সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে রায়হানকে নিয়ে যায়। নিজেও অপহৃত হওয়ার নাটক করে। এরপর চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে কৌশলে ১৫ এপ্রিল রায়হানের পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ হাতিয়ে নেয়।
টাকা নেওয়ার কৌশল বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেজর সাইফ বলেন, মিরপুর মডেল থানাধীন ষাটফিট ভাংগা ব্রিজের পাশের একটি পরিত্যক্ত সিগারেটের বক্সের পাশে কাগজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখতে বললে মামলার বাদী মো. রবিউল ইসলাম মুরাদ ও হাসান উল্লেখিত স্থানে এক লাখ টাকা রেখে আসেন। অপর পলাতক আসামী ফরিদ এসে টাকা নিয়ে যায় এবং অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় যে, বাকী চার লাখ টাকা না দিলে ভিকটিম রায়হানকে মুক্তি দেবেনা। বেশি দেরি করলে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে।
ইতোমধ্যে অপহরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অপহৃত ভিকটিম ও প্রাইভেটকারটি উদ্ধারে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ভিকটিম মো. রায়হান (২৫) কে উদ্ধার এবং ১টি সাদা রংয়ের ১৫০০ সি.সি প্রাইভেটকারসহ অপহরণচক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতার আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা পলাতক আসামী ফরিদ উদ্দিন (৪০) ও মো. বাহার (৩২) এর নাম প্রকাশ করে। সাভার মডেল থানায় এ সংক্রান্তে মামলা করা হয়েছে।